তীর্থ থেকে পর্যটনকেন্দ্র—সারা বছরই ভিড় বাড়ছে গঙ্গাসাগরে

তীর্থ থেকে পর্যটনকেন্দ্র—সারা বছরই ভিড় বাড়ছে গঙ্গাসাগরে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দক্ষিন 24 পরগণা – একসময় গঙ্গাসাগর মানেই ছিল শুধুই পবিত্র তীর্থস্থান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। এখন দিঘা বা বকখালির মতোই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠেছে গঙ্গাসাগর। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সরকারি উদ্যোগে কম খরচে থাকার সুবিধার কারণে সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে এই সমুদ্রতটে। শান্ত পরিবেশ, বিস্তীর্ণ বেলাভূমি আর সাগরসঙ্গমের অনন্য সৌন্দর্য বারবার টানছে ভ্রমণপ্রেমীদের।
গঙ্গাসাগর শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, পর্যটনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে। কপিল মুনির আশ্রম দর্শনের পাশাপাশি সমুদ্রতটের প্রশান্ত পরিবেশ উপভোগ করা যায় এখানে। বিস্তীর্ণ বালুচর ও বঙ্গোপসাগরের জলরাশি পর্যটকদের মনকে এনে দেয় এক ভিন্ন ধরনের শান্তি। গঙ্গাসাগর মেলার সময় ভিড় বেশি থাকলেও বছরের অন্যান্য সময়ে তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিবেশে পুরো এলাকা ঘুরে দেখা সম্ভব হয়।
থাকার ক্ষেত্রেও গঙ্গাসাগরে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা। নন-এসি ডবল বেডের ভাড়া প্রায় ৮০০ টাকা, ডরমিটরির ভাড়া প্রায় ২০০ টাকা। এসি ডবল বেডের খরচ প্রায় ১০৫০ টাকা, এসি ট্রিপল বেড প্রায় ১২০০ টাকা এবং কটেজের ভাড়া প্রায় ১৯৫০ টাকা। ফলে বিভিন্ন বাজেটের পর্যটকেরাই এখানে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।
কীভাবে পৌঁছাবেন গঙ্গাসাগরে—সেটিও বেশ সহজ। শিয়ালদহ থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত ট্রেনে ভাড়া প্রায় ২৫ টাকা। কাকদ্বীপ স্টেশন থেকে লট নম্বর ৮ পর্যন্ত টোটো ভাড়া প্রায় ২০ টাকা। সেখান থেকে কচুবেরিয়া পর্যন্ত ভেসেল ভাড়া প্রায় ৮ টাকা। কচুবেরিয়া থেকে গঙ্গাসাগর প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে, বাসে যেতে ভাড়া প্রায় ৩০ টাকা। সহজ যাতায়াত ব্যবস্থাই এই জায়গার জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে।
পর্যটকদের মতে, কম খরচে থাকা-খাওয়ার সুবিধা, উন্নত যোগাযোগ এবং মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ—এই তিন কারণেই গঙ্গাসাগর দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি সমুদ্রভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে এখন গঙ্গাসাগর হয়ে উঠেছে এক আদর্শ গন্তব্য।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top