
নিজস্ব সংবাদদাতা,বীরভূম,২২শে জুলাই :তৃণমূল নেতাদের হাত নামিয়ে রাখার উপদেশ দিলেন তৃণমূল ছেড়ে আসা বিজেপি নেতা
এক সময়ে তিনি ছিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি। তার হাত ধরেই বীরভূমের তৃণমূল খুদে থেকে বড় হয়েছে বলে অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এমনকি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জিও তাঁর সাথেই হাত ধরে ঘুরে বেরিয়েছিলেন জেলায়। কিন্তু দলের সাথে মনোমালিন্যের পর দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে বাইরে থাকলেও বর্তমানে মুকুল রায়ের হাত ধরে আবার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন বিজেপির হয়ে। তিনি আর কেউ না তিনি হলেন বীরভূমের প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি শৈলেন মাহাতো।
এই শৈলেন মাহাতো আজ চন্দ্রপুরে বিজেপির দেপুটেশন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে তৃণমূলকে হুমকি দেন নিজেদের হাত নামিয়ে রাখার। কারণ হাত নামিয়ে না রাখলে ফলাফল ভালো হবে না।
চন্দ্রপুর থানায় বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন জমা দিতে গিয়ে আজ শৈলেন মাহাতো তৃণমূল কর্মীদের উপলক্ষ করে বলেন, “বীরভূম জেলায় কোন দাদা নেই। তৃণমূলকে বীরভূম জেলায় আমিই চিনিয়েছি। তাই আমি সবার দাদা হয়ে বসে আছি। তাই টিএমসির দাদা আর ভাইদের বলছি, হুমকি আর ভয় থেকে হাত গুলো নামিয়ে রাখবেন। কারণ হুমকি দিলে এই হাতগুলো সোজা অবস্থায় থাকবে না। বামফ্রন্টের আমলে এই গ্রামের ভাইদের আগলে রেখেছিলাম। সেদিন যে কোন সময় ডাকলেই সবার পাশে এসে দাঁড়াতাম।”
অন্যদিকে সিউড়িতে ডেপুটেশন জিতেছে বিজেপি জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মন্ডল পুলিশকে বলেন, “৪৮ ঘন্টা আপনারা চুপচাপ থাকুন। তৃণমূলের কি অত্যাচার তা আমরা ওদের শিখিয়ে দেবো। মহাভারতে দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের মত তৃণমূল আমাদের মা বোনেদের বস্ত্রহরণ করছে আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। তাই এই অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র পুলিশের বীরভূম জেলায় দরকার নেই।”
এর পরে অবশ্য দলীয় কর্মীদের তিনি উপদেশ দেন পুলিশের উপর খারাপ আচরণ না করার জন্য। তিনি বলেন সবার শেষ দেখতে হয়, এদেরও শেষ দেখুন। পুলিশের শত অত্যাচার সত্ত্বেও পুলিশের গাড়ি ভাঙবেন না, কারণ পুলিশের গাড়ি সরকারি সম্পত্তি, আমাদের সম্পত্তি। পুলিশের গায়ে হাত দেওয়ার দরকার নেই, কিন্তু পুলিশকে গ্রামের মধ্যে ঘেরাও করে রাখুন। পুলিশকে জল খাওয়ান, চা খাওয়ান, যতক্ষণ না পুলিশ অন্যায় স্বীকার করবে ততক্ষণ গ্রাম থেকে বেরোতে দেবেন না।



















