দিল্লী – তেলেঙ্গানায় পথকুকুর হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য। রাস্তার কুকুরের জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, পথকুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ জরুরি হলেও তার জন্য কোনওভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া চলবে না। গণহারে হত্যা বা নিষ্ঠুর পদ্ধতি কোনও সমাধান নয় বলেও আদালত জানিয়েছে।
অভিযোগ, তেলেঙ্গানার কামারেড্ডি ও হনমকোড়া জেলায় পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৫০০ পথকুকুরকে বিষ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় সরপঞ্চ এবং একাধিক নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রতিনিধির উদ্যোগেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটানো হয়। কুকুরগুলিকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ানো হয় এবং মৃত্যুর পর দেহ মাটিতে পুঁতে ফেলা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তৎপর হয় তেলেঙ্গানা পুলিশ। একাধিক মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। মাটি খুঁড়ে মৃত কুকুরগুলির দেহ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয় হায়দরাবাদের পরীক্ষাগারে। পরীক্ষার রিপোর্টে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে, বিষক্রিয়াতেই মৃত্যু হয়েছে পথকুকুরগুলির।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রায় কুড়িজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রতিনিধি। পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি তেলেঙ্গানায় পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়েছিল। ভোটপ্রচারের সময় বহু প্রার্থী গ্রামকে ‘পথকুকুরমুক্ত’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অভিযোগ, নির্বাচনে জয়ের পর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের নামে বেআইনি ও নির্মম পথ বেছে নেওয়া হয়।
পথকুকুর নিয়ে সমস্যা শুধু তেলেঙ্গানায় সীমাবদ্ধ নয়, গোটা দেশেই এটি দীর্ঘদিনের এক জটিল ইস্যু। সাম্প্রতিক সময়ে এই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলার শুনানি হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, কুকুরের কামড়ে কেউ আহত হলে ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব সরকারের উপর বর্তাতে পারে। তবে একই সঙ্গে আদালতের কড়া বার্তা—জন্মনিয়ন্ত্রণই একমাত্র বৈজ্ঞানিক ও মানবিক পথ, গণহারে হত্যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।




















