তেহরানকে ঘিরে যুদ্ধের জল্পনা, পেন্টাগনে গোপন বৈঠকের পর চূড়ান্ত প্রস্তুতির ইঙ্গিত

তেহরানকে ঘিরে যুদ্ধের জল্পনা, পেন্টাগনে গোপন বৈঠকের পর চূড়ান্ত প্রস্তুতির ইঙ্গিত

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ – ইরানের আকাশে ফের ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ। দফায় দফায় হুঁশিয়ারির পর এবার তেহরানের মাটিতে হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে আমেরিকা—এমন জল্পনাই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে। সম্প্রতি পেন্টাগনে আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে হওয়া একটি গোপন বৈঠক সেই আশঙ্কাকে আরও উসকে দিয়েছে। যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি, তবু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আলোচনার কেন্দ্রে যে ইরানই ছিল, তা নিয়ে বিশেষ সন্দেহ নেই।
সংবাদ সংস্থা রয়টর্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত শুক্রবার পেন্টাগনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন এবং ইজরায়েলের সেনার ‘চিফ অফ স্টাফ’ আয়ল জমির। পাশাপাশি দুই দেশের আরও শীর্ষ সামরিক কর্তারা বৈঠকে অংশ নেন। এই বৈঠকের পরই জমির ওয়াশিংটন সফর শেষ করে দেশে ফিরে ইজরায়েলের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করেন।
ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, তেল আভিভে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে হওয়া ওই বৈঠকগুলিতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ কাটজ, সেনাপ্রধান আয়ল জমির, মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি ও তার পরিণতি পর্যালোচনা করা।
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই আলোচনায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে। একই দিনে পেন্টাগনে মার্কিন ও ইজরায়েলি সেনাকর্তাদের বৈঠক এবং তার পর ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ সামরিক তৎপরতা দেখে কূটনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান, ইরানের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপের জন্য সবুজ সংকেত দিয়ে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েকদিন আগেও মনে করা হচ্ছিল পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমেছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আটশোর বেশি বিদ্রোহীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেও তা প্রত্যাহার করেছিল তেহরান। সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন ট্রাম্প নিজেই। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, আমেরিকা হয়তো চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসছে।
তবে সেই ধারণায় জল ঢেলে ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় বিশাল নৌবহর পাঠিয়েছে আমেরিকা। তিনটি রণতরীর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হরমুজ প্রণালীতে পাঁচদিনব্যাপী একটি সামরিক মহড়া শুরুর পরিকল্পনা করেছে।
রবিবার ইরানের এক সরকারি টিভি চ্যানেলে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বার্তা সম্প্রচার করা হয়। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে তার ভয়াবহ পরিণতির দায়ও তাদেরই নিতে হবে। খামেনেইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হলে তা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top