দক্ষিণ কলকাতায় গরমে জল সংকট দূর করতে ফারতাবাদ জল প্রকল্পে ত্বরান্বিত কাজ

দক্ষিণ কলকাতায় গরমে জল সংকট দূর করতে ফারতাবাদ জল প্রকল্পে ত্বরান্বিত কাজ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা – দক্ষিণ কলকাতায় গরমের মরসুমে পানীয় জলের অভাব দূর করতে কলকাতা পুরসভা ফারতাবাদের জল প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে চাচ্ছে। মহানগরে সামগ্রিকভাবে জলের সংকট আগের তুলনায় কমে এসেছে, তবে দক্ষিণ কলকাতা ও ইএম বাইপাসের কিছু এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত পানীয় জল পৌঁছাচ্ছে না। জলের চাহিদা মেটাতে গড়িয়া ঢালাই ব্রিজের কাছে ফারতাবাদে ১০ মিলিয়ন গ্যালন ক্ষমতাসম্পন্ন জলশোধনাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধাপায় ২০ এমজি ক্ষমতাসম্পন্ন আরও একটি জলশোধনাগার নির্মাণের কাজ চলছে। কলকাতা পুরসভা আশা করছে এই গ্রীষ্মের মধ্যে দুই প্রকল্পই চালু হবে। ইতিমধ্যেই ফারতাবাদ জল প্রকল্পের কাজ অনেকটা এগিয়েছে এবং পাইপলাইন পাতার কাজ চলছে। জল সরবরাহ দপ্তরের আধিকারিকরা আশাবাদী, মার্চ–এপ্রিলের মধ্যে ফারতাবাদ থেকে জল সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে ধাপার ২০ এমজি জল প্রকল্প সম্পন্ন হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
বর্তমানে গার্ডেনরিচ, পলতা, ধাপা, ওয়াটগঞ্জ ও জোড়াবাগান এই পাঁচটি জলশোধনাগার থেকে প্রতিদিন ৫১৫ মিলিয়ন গ্যালন জল সরবরাহ করে কলকাতা পুরসভা। এর মধ্যে গার্ডেনরিচ থেকে সরবরাহ হয় ২১০ এমজি, পলতা থেকে ২৬২ এমজি, ধাপা থেকে ৩০ এমজি, ওয়াটগঞ্জ থেকে ৫ এমজি এবং জোড়াবাগান থেকে ৮ এমজি। গার্ডেনরিচের ময়লা ডিপোতেও নতুন ৪০ এমজি ক্ষমতাসম্পন্ন জলশোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।
মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, ফারতাবাদ ও ধাপার জল প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বাইপাস ও দক্ষিণ কলকাতার জলের সমস্যা মিটবে। পাশাপাশি গার্ডেনরিচ ময়লা ডিপোতে ৪০ এমজি ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন জল প্রকল্প তৈরি হলে শহরে ২৫ বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত জল সংকট হবে না।
এক সময় শহরে তীব্র জল সংকট ছিল, বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দারা জলকষ্টে ভুগতেন। তখন ভূগর্ভস্থ জলই তাদের একমাত্র ভরসা ছিল। তৃণমূল পুরবোর্ড ক্ষমতায় আসার পর শহরবাসীর জলকষ্ট অনেকটাই কমেছে। তবু বেহালা, টালিগঞ্জ, যাদবপুরসহ কিছু অঞ্চলে পর্যাপ্ত পানি পৌঁছায়নি, যেখানে এখনও নলকূপের জলই প্রধান ভরসা। কলকাতা পুরসভার লক্ষ্য প্রতিটি বাড়িতে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া। বাজেটেও জল সরবরাহ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এবারও ২ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top