রাজ্য – শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু বুথস্তরে সংগঠন এখনও অত্যন্ত দুর্বল বিজেপির। তার উপর দক্ষিণ কলকাতায় পরিস্থিতি আরও সঙ্কটজনক। এমন অবস্থায় দক্ষিণ কলকাতায় সংগঠন মজবুত করা এবং বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন সদ্য তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে আসা তাপস রায়। যদিও তিনি উত্তর কলকাতার বাসিন্দা এবং বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর উত্তর কলকাতা থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এবার দক্ষিণ কলকাতার দায়িত্ব পেয়ে তিনি নতুন পার্টি ভবন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করেছে বিজেপি। কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সংকল্প পত্র পরামর্শ যাত্রা কর্মসূচি’। এর মাধ্যমে সংগঠনকে চাঙা করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বিজেপির দাবি।
বর্তমানে বিজেপির দু’টি অফিস রয়েছে কলকাতায়। একটি ৬, মুরলীধর সেন লেনের অফিস, যা এক সময় ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে ভাড়া নিয়ে শুরু হয়েছিল। অফিসটি এখনও থাকলেও এখন আর তা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে না। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে রাজ্য বিজেপির হেড কোয়ার্টার গড়ে ওঠে। তবে সেখান থেকেও উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক সাফল্য আসেনি। ওই ভবনটিও ভাড়ার।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাই মধ্য অথবা দক্ষিণ কলকাতায় নিজস্ব পার্টি ভবন গড়তে মরিয়া বিজেপি। দলীয় সূত্রের খবর, এই নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতাকে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হয়। এখানকার বিধায়ক ও সাংসদ—সবাই তৃণমূলের। বারবার এই এলাকায় হেরে এসেছে বিজেপি। তবুও এবার দক্ষিণ কলকাতায় বড় লড়াই দিতে চাইছে পদ্মশিবির।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক নেতা জানান, তৃণমূলের সঙ্গে সম্মুখসমরে লড়াই করতে শহরের উপকণ্ঠে একটি বড় পার্টি অফিস খোলার চেষ্টা করছে নেতৃত্ব। সবার প্রথম পছন্দ দক্ষিণ কলকাতায় নিজস্ব ভবন। তা সম্ভব না হলে শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় বিকল্প অফিস গড়ার ভাবনাও রয়েছে। সেই অফিস থেকেই দক্ষিণ কলকাতার নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে বলে সূত্রের খবর।
ধর্মতলার কাছে একটি অফিসের সন্ধানও পাওয়া গেছে। তবে দাম নিয়ে এখনও সহমত হতে পারেননি রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিজেপির ওই নেতার বক্তব্য, রাজ্যজুড়ে দলের সাংগঠনিক পরিসর ক্রমশ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে প্রায় প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় নিজস্ব পার্টি অফিস তৈরির কাজ শেষের পথে। অথচ রাজ্য স্তরে প্রধান কার্যালয়ের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরামর্শেই ধর্মতলার আশপাশে বা দক্ষিণ কলকাতায় নতুন অফিস খোঁজা হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির ইচ্ছা, ভাড়া নয়—নিজস্ব অফিস কিনে নেওয়া।




















