দলীয় নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ব্যঙ্গ-উপহাসে সামিল সব্যসাচী দত্ত

দলীয় নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ব্যঙ্গ-উপহাসে সামিল সব্যসাচী দত্ত

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram

নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা,২৯ শে মে :সাইরেন বাজিয়ে ঘুরে বেড়ালে যা হওয়ার তাই হয় , ‘ দলীয় নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ব্যঙ্গ-উপহাসে সামিল সব্যসাচী দত্ত :
বারাসত । ।
ক্যুয়ো ভ্যাদিস ও বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জ্যোতিপ্রিয় -সুজিতকে নিয়ে উপহাস । বারাসতে বুধবার স্বমহিমায় সব্যসাচী দত্ত । ক্যুয়ো ভ্যাদিস কথাটি ল্যাটিন , অর্থ কোন পথে চলেছ ? সব্যসাচী দত্ত কোন পথে তা এতবড় ধাঁধা যে এখনও তা বিদেশি ভাষার মতই দুর্বোধ্য । তবে তৃনমুল দলে থেকেই দলীয় নেতৃত্বে বিষম ক্ষুব্ধ তিনি- যাঁর প্রকাশ সব্যসাচীর প্রতিটি শব্দ চয়নে ।

‘ ‘ মানুষের ভোট , মানুষের রায় । শুধু সাইরেন বাজিয়ে ঘুরে বেড়ালে যা হওয়ার তাই হয় ।’ ‘ তৃণমূলের বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দলের নেতাদের সাথে জনতার সংযোগহীনতাকে এবার সামনে তুলে ধরলেন তৃনমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত । বারাসাতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সামনে দলীয় নেতৃত্বকে আক্রমণ করার পাশাপাশি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও সুজিত বসু কে আক্রমণ করলেন , করলেন ব্যঙ্গ ।

তৃনমূল সুপ্রীমো যে ভুল নেতাদের ভুল করে আস্থা রাখছেন আর সেজন্যই যে দল বিশ বাঁও জলে তা বারংবার ক্ষোভের সঙ্গে উগরে দিতে ভুললেন না সব্যসাচী দত্ত । নতুন এক রাজনৈতিক মঞ্চের তত্ব বুধবার বারাসতে আবার জানিয়ে ও তার দিশা না পরিস্কার করে সব্যসাচী যথারীতি তাঁর স্বভাবসুলভ রাজনৈতিক সাসপেন্স রেখে গেলেন ।

সাম্প্রতিক অতীতে যে নেতারা একসময়ে সব্যসাচী দত্তকে আতস কাঁচের তলায় রেখে তার গতিবিধিকে নজরে রাখার কথা বলে তির্যক মন্তব্য করতেন তাঁদেরকে পাল্টা আরেকটি আতস কাঁচের তলায় রেখেছিলেন

সব্যসাচী এখন তা পরিস্কার ।সব্যসাচী লোকসভার প্রচারের সময় তৃণমূল দলের সামনের সারিতে ছিলেন না । বারাসাত বিশেষ আদালতে এসে তিনি বুঝিয়ে গেলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আর সুজিত বসু দের নিয়ে অন্তরালে থেকেই নিরন্তর কাটাছেঁড়া করেছেন রাজনৈতিক ভাবে । সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন সব্যসাচী , এদিন মুখর হলেন । তাঁর ব্যাখ্যা তাঁকে যাঁরা পচা আলু বলেছিলেন সেই তথাকথিত ‘ ‘টাটকা আলুরা লোকসভার ফলের পরে হড়কে গেল।’ ‘ সব্যসাচীর মতে , যাঁরা যে তৃণমূল নেতা মন্ত্রীরা টাটকা আলু মনে করেন তাঁরা নিজের ওয়ার্ডে হারেন । সব্যসাচী মনে করেন তিনি উতরে গেছেন কারণ তাঁর বিধানসভা ক্ষেত্র , তাঁর ওয়ার্ড ও তাঁর এলাকায় তৃনমূল বড় ব্যবধানে জিতেছে ।

সব্যসাচীর এদিন প্রথম লাভা উদ্গীরণ ছিল তাঁর জেলার দলীয় সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে লক্ষ্য করে । নিজের বিধানসভা ক্ষেত্রে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিশাল ব্যবধানে হারকে কটাক্ষ করে তাঁর দলীয় তন্ত্র কে ব্যাঙ্গের সুরে আক্রমণ ও কার্যত প্রশ্ন তুলে দেওয়া কেন জ্যোতিপ্রিয় কে প্রোমোশন দেওয়া হচ্ছে ? ইঙ্গিত সুস্পষ্ট ।

সুজিত বসু কে আক্রমনের ভঙ্গী ছিল আরো সরেস । ‘ সুজিত বসু নিজের ওয়ার্ডে জিততে পারেন না অথচ এঁরা সারা বাংলার নেতা হন , এখন এটাই ট্রেন্ড । সুজিত বসু আগামী দিনে সর্বভারতীয় নেতা হবেন । ‘, তাঁর বিমার সুজিত বসুকে লক্ষ্য করে ।
একইসঙ্গে পুলিসি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নির্যাতিত দের পক্ষ নেওয়া এবং যে নেতারা ২০১১ সালের রাজ্যে পরিবর্তনের কান্ডারী ছিলেন তাঁদের একজোট করার প্রয়াস ও সংশোধনমুখী এক মঞ্চের মাধ্যমে নতুনতর বার্তা দেওয়া সব্যসাচী এখনও দলে থেকে আত্মসমালোচনার পথেই হাঁটছেন ।কিন্তু এই হেঁটে যাওয়া কোন রাজনৈতিক দিশা পেতে তা এখনও সুস্পস্ট নয় , সব্যসাচী নিজেও বলছেন , তাঁরা একজোট হয়ে ঠিক করবেন কার পক্ষে হবেন , কার বিপক্ষে হবেন । অর্থাৎ ঘুরেফিরে সেই ধাঁধা ও ক্যুয়ো ভ্যাদিস ।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top