দার্জিলিং – ব্ল্যাক প্যান্থার বা কালো চিতাবাঘের পর এবার ডাওহিলের জঙ্গলে দেখা মিলল কালো হরিণের। বুধবার কার্শিয়াংয়ের ডাওহিল ফরেস্টে এই বিরল প্রজাতির হরিণের উপস্থিতি বন দফতরের অন্দরে শোরগোল সৃষ্টি করেছে। কারণ হিমালয় সংলগ্ন নেপাল, ভুটান ও চীনের পার্বত্য এলাকায় আরও এক বিরল প্রজাতি, ব্ল্যাক মাস্ক ডিয়ারের দেখা মেলে। ডাওহিলে পাওয়া হরিণটি সেই প্রজাতির কিনা, তা নিয়ে বন দফতরে জল্পনা শুরু হয়েছে।
কার্শিয়াং ডিভিশনের ডিএফও দেবেশ পান্ডে জানান, ‘ওই কালো হরিণ বার্কিং ডিয়ারের প্রজাতির। সম্ভবত জিনগত কারণে দেহের রং কালো হয়েছে। এখানে এই প্রথম এমন হরিণের দেখা মিলল। এটা আমাদের জীববৈচিত্র্যের একটি নতুন সংযোজন। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’
দার্জিলিং জেলার বনাঞ্চলগুলির মধ্যে ডাওহিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। কার্শিয়াং শহরের মধ্যেই অবস্থিত এই জঙ্গলের উচ্চতা সমতল থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার ফুট। বুধবার দুপুরে অফিস থেকে বেরিয়ে জঙ্গলের দিকে যেতেই ঝোপের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা ওই হরিণের চোখে পড়ে ডিএফও দেবেশ। সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে ক্যামেরাবন্দি করেন এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন।
বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশগত বা জিনগত কারণে কোনও কোনও প্রাণীর শরীরে মেলানিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে দেহের রং কালো হয়ে ওঠে। এ ধরনের প্রাণীদের ‘মেলানিস্টিক’ প্রজাতি বলা হয়। ডিএফওর আশঙ্কা, ডাওহিলে আরও কিছু কালো হরিণ থাকতে পারে। তাই জঙ্গলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পাইনের পাশাপাশি অর্কিড, রডোডেনড্রন-সহ নানা প্রজাতির গাছপালায় সমৃদ্ধ ডাওহিলের জঙ্গলে আগেও একাধিকবার ব্ল্যাক প্যান্থার বা মেলানিস্টিক চিতাবাঘ দেখা গেছে। এমনকি ব্ল্যাক ট্যারান্টুলার উপস্থিতিও নথিভুক্ত হয়েছে। এবার কালো হরিণের হদিশ মেলায় বন দফতরের কর্মকর্তারা উচ্ছ্বসিত।
বনকর্তাদের একাংশের মতে, দার্জিলিং জেলার একদিকে নেপাল, অন্যদিকে ভুটান। ওই দুই দেশের পার্বত্য জঙ্গলে ব্ল্যাক মাস্ক ডিয়ারের বিচরণ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশের জঙ্গল থেকেই হয়তো কোনও বিরল প্রজাতির হরিণ ডাওহিলে এসে পৌঁছেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার প্রয়োজন বলে জানাচ্ছে বন দফতর।




















