পূর্ব মেদিনীপুর – মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে দিঘায় নির্মিত জগন্নাথ মন্দির এখন ভক্ত ও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। একদিকে সমুদ্রের টান, অন্যদিকে জগন্নাথ দর্শনের আবেগ—দু’য়ে মিলে দিঘা হয়ে উঠেছে আরও জনপ্রিয় গন্তব্য। সারা বছরই লাখ লাখ পর্যটকের ভিড় থাকলেও জগন্নাথধাম উদ্বোধনের পর সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অতিরিক্ত ভিড়ে হোটেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগও উঠছে বিভিন্ন হোটেলের বিরুদ্ধে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের আবাসন পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগম (হিডকো) দিঘায় হোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এই মর্মে জোড়া দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। জগন্নাথধাম নির্মাণের দায়িত্বও ছিল হিডকোর উপর। এবার পর্যটকদের থাকার সমস্যার সমাধানে তারাই নতুন প্রকল্পে হাত দিচ্ছে।
গত বছর এপ্রিল মাসে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন জগন্নাথধামের দ্বারোদ্ঘাটন হয়। গত ডিসেম্বরেই দর্শনার্থীর সংখ্যা ১ কোটির মাইলফলক ছুঁয়েছে। পুরীর আদলে ধ্বজাদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং অগ্রিম বুকিংয়ের মাধ্যমে তিন বেলা আট রকম মহাপ্রসাদের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। এবার দর্শনার্থীদের মাথা গোঁজার স্থানের অভাব মেটাতেই হোটেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত।
প্রথম দরপত্র অনুযায়ী, দিঘার পশ্চিম গদাধরপুর মৌজায় ৩৪টি প্লটে মোট ৬.৮৮ একর জমিতে নির্মাণ হবে। দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতে আরও ১২টি প্লটে ২.২৯ একর জমির উল্লেখ রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ একর জমিতে গড়ে উঠবে এই হোটেল প্রকল্প। আগামী ১৮ মার্চ ই-অকশনের মাধ্যমে দরপত্র চূড়ান্ত করা হবে। গত তিনটি আর্থিক বছরে ন্যূনতম ১০০ কোটি টাকার লেনদেন রয়েছে—এমন সংস্থাই এই ই-অকশনে অংশ নিতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।
হিডকো হোটেল নির্মাণের কাজ শেষ করার জন্য পাঁচ বছরের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে অনুমান। কয়েক মাস আগেই হিডকোর চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নিয়েছেন রাজ্যের অর্থ ও স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, দিঘায় পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে জগন্নাথধাম চালুর পর ভিড় আরও বেড়েছে। তাই সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের পর নিউ টাউনে দুর্গা অঙ্গন এবং শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির নির্মাণের দায়িত্বও পেয়েছে হিডকো। দুটি প্রকল্পের শিলান্যাস ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এবার দিঘায় হোটেল নির্মাণের মাধ্যমে পর্যটন পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পথে এগোল রাজ্য।




















