দিল্লি – দিল্লিতে থাকা এসআইআর ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। ওই ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজ্য পুলিশের একটি বড় দল বঙ্গভবনে পাঠানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যরাও। গোটা টিমটির তত্ত্বাবধানে থাকবেন ডিএসপি পদমর্যাদার এক আধিকারিক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিএসপি-সহ মোট ২২ জনের একটি দল রাজধানীতে যাচ্ছে। ওই দলে একজন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিকও রয়েছেন। মঙ্গলবার রাতেই তাঁদের ফ্লাইট রয়েছে বলে খবর। ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলা-সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বর্তমানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে। শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ইস্যুতে ছ’বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, এসআইআরের চাপে বাংলায় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ নির্বাচন কমিশনের নথিতে কার্যত ‘জীবিত হয়েও মৃত’ হয়ে গিয়েছেন। যদিও এই চিঠিগুলির কোনও উত্তর এখনও মেলেনি।
এই অভিযোগগুলিকে সামনে রেখেই এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিল্লিতে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় বঙ্গভবনে। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের অস্বাভাবিক তৎপরতা নজরে আসে। অভিযোগ ওঠে, গোটা এলাকা পুলিশে ঘিরে ফেলা হয় এবং এমনকি বঙ্গভবনের ভিতরেও ঢুকে তল্লাশি চালানো হয়।
এই খবর পেয়েই আর দেরি না করে বঙ্গভবনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে প্রথমেই তিনি এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে আশ্বাস দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ভিতরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও চিন্তা করবেন না, আমি আছি।”
এরপর বঙ্গভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ বেআইনিভাবে বঙ্গভবনে ঢুকে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “ওখানে বাংলার মানুষ থাকছেন। এটা আমাদের ভবন। ওরা এটা করতে পারে না।”
মমতা জানান, এসআইআরের কারণে যাঁদের পরিবারে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে এবং যাঁরা জীবিত থেকেও কমিশনের নথিতে মৃত হিসেবে নথিভুক্ত, তাঁদের পরিজনদের নিয়েই তিনি দিল্লিতে এসেছেন। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাকে দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই। ওঁদের ভয় দেখানো যাবে না।”
বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রীকে কথা বলতে দেখা যায়। আগেও দিল্লিতে বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সংযত হোন। বাংলার মানুষকে এ ভাবে হেনস্থা করবেন না। অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে প্রিয়জনকে হারিয়েছেন।”
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তড়িঘড়ি রাজ্য পুলিশের ডিএসপি-সহ ২২ জনের বিশেষ দল দিল্লিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।




















