রাজ্য – দিশাহীন অবস্থায় পড়েছে সিপিএম—এমনই রাজনৈতিক চর্চা এখন রাজ্য জুড়ে। একদিকে জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর কার্যত ক্লোজ চ্যাপ্টার, অন্যদিকে কংগ্রেস হাই কমান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়াইয়ের প্রশ্নই নেই। এই প্রবল ঘর-বাইরের চাপে শেষ পর্যন্ত মিমের দ্বারস্থ হল সিপিএম—এমনটাই রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।
সূত্রের খবর, সিপিএম রাজ্য সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ এক নেতার ফোন পৌঁছায় মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কির কাছে। এই ফোন পাওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন ইমরান সোলাঙ্কি। এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনে কি এককভাবে প্রার্থী দিতে ভয় পাচ্ছে বামেরা?
নীতির প্রশ্নে বামেদের একসময় সমীহ করত বহু দক্ষিণপন্থী দল। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র থেকে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক নিজে লড়াই করবেন বলেই কি প্রথমে কংগ্রেস, তারপর জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং এবার মিম—একটার পর একটা দরজায় কড়া নাড়ছে সিপিএম? যদিও ইমরান সোলাঙ্কি পাল্টা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সরাসরি সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে তিনি প্রস্তুত। প্রয়োজনে কলকাতা বা মুর্শিদাবাদ—যেখানেই বলা হবে, সেখানেই বৈঠকে বসতে রাজি তিনি।
এই ঘটনার পর থেকেই সিপিএমের অন্দরে জোর কানাঘুষো—রাজ্য সম্পাদকের সবুজ সংকেত ছাড়া কি এমন ফোন করা সম্ভব? সেই প্রশ্নই ঘুরছে দলের ভেতরে। খবর প্রকাশ্যে আসতেই বামফ্রন্টের শরিক দলগুলিও প্রকাশ্যে অস্বস্তি প্রকাশ করেছে। ফরোয়ার্ড ব্লকের নেতা নরেন চ্যাটার্জী আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ফরোয়ার্ড ব্লকের তরফে বৃহত্তর বাম ঐক্যের কথা তুলে ধরা হয় এবং স্পষ্ট জানানো হয়, আসন সংখ্যা বাড়িয়ে বৃহত্তর বাম জোট হিসেবেই বিধানসভা নির্বাচনে লড়া উচিত।
একই সুর শোনা গিয়েছে সিপিআই-এর গলাতেও। শনিবার তাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই নির্বাচনে অন্তত ২০টি কেন্দ্রে তারা প্রার্থী দিতে চায়। সূত্রের খবর, এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও নাকি ইতিবাচক হয়েছে।
অন্যদিকে, আইএসএফ-এর তরফ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, কংগ্রেস জোট সঙ্গী না হওয়ায় তাদের আসন সংখ্যায় পরিবর্তন হতে পারে। এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে সিপিএম। তাই কখনও কংগ্রেস, কখনও আইএসএফ, আবার এখন মিমের কাছে গিয়ে আসন সমঝোতার চেষ্টা করছে ‘সেলিম বাবুরা’। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নীতি-আদর্শকে মাটিতে ফেলে নিজের আসন বাঁচাতেই মরিয়া সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক।




















