দু’দফায় ভোট, কড়া নিরাপত্তা ও একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন

দু’দফায় ভোট, কড়া নিরাপত্তা ও একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দিন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। এবার রাজ্যে দু’দফায় নির্বাচন হবে—২৩ ও ২৯ এপ্রিল। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। ভোট ঘোষণার একদিন পরেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন একাধিক নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে, যেখানে নিরাপত্তা, নজরদারি ও আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত কড়াকড়ি ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আধিকারিকরা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে প্রয়োজনে সংবিধানের ৩১১ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হতে পারে। অর্থাৎ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করানো হবে বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ত্রিস্তরীয় মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে—রিটার্নিং অফিসার, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মিলিয়ে নজরদারি চলবে, পাশাপাশি ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সাব-ডিভিশন স্তরে গণনা হবে না; সব গণনা হবে জেলা স্তরে। ভোট চলাকালীন ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে নির্বাচনী কাজ পরিচালনায় ২৪টি এনফোর্সমেন্ট সংস্থা সক্রিয় রয়েছে।
ভোট পরিচালনার সময় আধিকারিকরা তিনটি শিফটে কাজ করবেন। কমিশন আরও জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর থেকে এখনও পর্যন্ত বেআইনি অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে প্রায় ১১২ কোটি টাকা। ভোট প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
৮৫ বছরের বেশি বয়সী এবং শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটাররা ‘১২ডি’ ফর্ম পূরণ করলে বাড়িতে গিয়ে গোপনীয়তা বজায় রেখে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচার ও প্রভাব খাটানোর ক্ষেত্রে কড়া আইন কার্যকর থাকবে। ১৭০ ধারায় ভোটারকে অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে বা কেউ টাকা নিলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। ১৭১ ধারায় ভোটারকে ভয় দেখানো বা হিংসা ছড়ানোর চেষ্টার ক্ষেত্রেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে।
১৩৫এ ধারা অনুযায়ী, কোনও কেন্দ্রে অশান্তি বা হিংসা হলে অথবা ওয়েবকাস্টিংয়ে সন্দেহজনক কিছু ধরা পড়লে সেই কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রতি দফায় ভোট পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় ২২০০ থেকে ২৫০০ কোম্পানি মোতায়েন থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে প্রতিটি থানার আধিকারিককে রিপোর্ট দিতে হবে যে তাদের এলাকায় কোনও আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা বা গোলাবারুদ মজুত রয়েছে কিনা। অবৈধ সামগ্রী দ্রুত নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এ ধরনের কিছু পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কমিশন জানিয়েছে।
প্রত্যেক পুলিশ জেলায় দু’জন করে পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি বিচারাধীন তালিকায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ নাম স্ক্রুটিনি হয়েছে। সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে কারও নাম বাদ গেলে সংশ্লিষ্টরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। এই তালিকা প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top