দিল্লি – দিল্লিতে শ্বাস নেওয়া কার্যত একাধিক সিগারেট খাওয়ার সমান—শীত পড়তেই অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে রাজধানীর বায়ুদূষণ। রবিবার দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই ছুঁয়েছে ভয়ঙ্কর ৫০০। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গ্র্যাপ-৪ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এই অবস্থায় আরও কড়া সিদ্ধান্ত নিল দিল্লি সরকার। বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ শংসাপত্র বা পিইউসিসি (Pollution Under Control Certificate) না থাকলে পেট্রোলপাম্পে আর জ্বালানি মিলবে না। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজ থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে।
দিল্লি সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য যানবাহন থেকে নির্গত দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ, রাজধানীর বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎসই হল গাড়ি। নির্দেশ কার্যকর করতে পেট্রোলপাম্পগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গাড়ির নম্বর প্লেট স্ক্যান করে দূষণ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে ব্যবহার করা হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এএনপিআর (ANPR)। পাশাপাশি, বিভিন্ন পেট্রোলপাম্পে সরাসরি তল্লাশিও চালানো হচ্ছে।
তবে এই কড়াকড়ির বাইরে রাখা হয়েছে অত্যাবশ্যক পরিষেবার যানবাহনকে। অ্যাম্বুল্যান্স, দমকলের গাড়ি, পুলিশ ভেহিকল এবং জরুরি পণ্য পরিবহণকারী যানবাহনের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মঞ্জিন্দর সিং সিরসা এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে বলেন, রাজধানীর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর মতে, যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া দূষণের বড় কারণ এবং তা নিয়ন্ত্রণে না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। এই পদক্ষেপ দূষণ কমানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্দেশ কার্যকর করতে পেট্রোলপাম্পগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে ট্র্যাফিক পুলিশ। পাশাপাশি পরিবহণ দফতর এবং পুরসভার আধিকারিকরাও নজরদারিতে রয়েছেন। এর জেরে বুধবার থেকেই বিভিন্ন পিইউসিসি কেন্দ্রের সামনে লম্বা লাইন চোখে পড়ছে। শেষ মুহূর্তে শংসাপত্র আপডেট করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন বহু চালক।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও সামনে আসছে। বহু চালকের অভিযোগ, দিল্লি ছাড়া দেশের অন্য শহরগুলিতে এত কড়াকড়ি না থাকলেও সেখানে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। এক চালকের কথায়, এই সিদ্ধান্তে অফিসযাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে এবং মানুষ কাজে যেতেই সমস্যায় পড়বে। আর এক চালক জানান, পিইউসিসি আপডেট করতে না পারায় তাঁকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে দিল্লির ভয়াবহ দূষণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কড়া অবস্থান যেমন স্পষ্ট, তেমনই এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সাধারণ মানুষের অসন্তোষও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এখন প্রশ্ন একটাই—এই কড়া কড়াকড়ি আদৌ রাজধানীর আকাশ পরিষ্কার করতে কতটা সফল হয়।




















