রাজ্য – শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজের প্রতিভাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন উত্তরপাড়ার দৃষ্টিহীন দাবা প্রশিক্ষক যুধাজিৎ দে। দৃশ্যমান জগতকে না দেখেও মগজাস্ত্রের নিখুঁত চালেই তিনি তৈরি করে চলেছেন একের পর এক দক্ষ দাবাড়ু। বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবসের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে জাতীয় সম্মান পেলেন এই তরুণ প্রতিভা। তাঁর এই অসামান্য অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদবও।
মা রূপা দে-র হাত ধরেই দাবার হাতেখড়ি হয়েছিল যুধাজিতের। ছোটবেলা থেকেই তাঁর একাগ্রতা ও অধ্যবসায় তাকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে। দৃষ্টিহীনতাকে কখনও বাধা হতে দেননি—বরং নিজের ভালোবাসাকেই করে তুলেছেন শক্তি। আজ তিনি একজন সফল আন্তর্জাতিক মানের দাবা প্রশিক্ষক; তাঁর নির্দেশনায় বহু তরুণ দাবাড়ু সাফল্যের পথে হাঁটছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে যুধাজিৎ অর্জন করেছেন একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা, পাশাপাশি পাঁচবার পেয়েছেন জাতীয় স্বর্ণপদক। দাবার পাশাপাশি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতেও দখল রয়েছে তাঁর।
বুধবার দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণের পর যুধাজিৎ ও তাঁর পরিবার এখন রাজধানীতে রয়েছেন। আগামী ৬ তারিখ তিনি উত্তরপাড়ায় ফিরলে পুরসভার পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব। শহরের কৃতী সন্তানকে ইতিমধ্যেই ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।
দিল্লি থেকে ফোনে যুধাজিৎ জানিয়েছেন, জাতীয় সম্মান পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর বক্তব্য—জীবনের পথে কোনও প্রতিবন্ধকতাই ইচ্ছাশক্তি ও দৃঢ় জেদের কাছে বড় নয়। দৃঢ় মনোবলই মানুষকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।




















