কলকাতা – শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বঙ্গে জমি শক্ত করতে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় নেতাদের রাজ্যে আনা থেকে শুরু করে রথযাত্রা—সব দিকেই সক্রিয় গেরুয়া শিবির। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার সেই একই অভিযোগে সরব হল সিপিএমও। শুধু অভিযোগেই থেমে থাকেনি তারা, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেছে লালপার্টি।
সিপিএমের অভিযোগ, দোল উৎসব উপলক্ষে বালিগঞ্জ অঞ্চলে শরৎ বোস রোডের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সংবিধান বিরোধী মন্তব্য করেছেন। তাদের দাবি, ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী ও বিভাজনমূলক বক্তব্য রেখেছেন তিনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বালিগঞ্জ থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সিপিএমের কমরেডদের বক্তব্য, দেশের সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সম্প্রীতির ঐতিহ্যের পরিপন্থী কোনও মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না।
দোল উৎসবের মঞ্চে কলকাতায় বিরোধী দলনেতা বলেন, “নাস্তিকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা চলবে না, হিন্দুস্তানে হিন্দুদের রাজত্ব চলবে।” এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে। বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ায় ভোটের আগে তা বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
অন্যদিকে বিজেপির অন্দরেও শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে জল্পনা বাড়ছে। সূত্রের খবর, তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে বিভিন্ন কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নাকি আদি নেতৃত্বের উপর বেশি ভরসা রাখছেন। এমন পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিকভাবে কিছুটা কোণঠাসা বলেও আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে সিপিএমের একটি বড় অংশের ভোট বিজেপির দিকে গিয়েছিল। এবার সিপিএম যদি নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে পারে, তা হলে বিজেপির অঙ্কে প্রভাব পড়তে পারে। এই প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে এফআইআর ইস্যু নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনীতির অন্দরে।




















