পুরুলিয়া – দোল আর পুরুলিয়া—দু’টো যেন একে অপরের পরিপূরক। বসন্ত এলেই লাল পলাশে ঢেকে যায় পাহাড়-জঙ্গল, আর সেই রঙিন টানেই পর্যটকের ঢল নামে জেলায়। তবে পুরুলিয়া মানেই শুধু অযোধ্যা হিলস বা গড়পঞ্চকোট নয়। একটু অন্যরকম, রূপকথার মতো অভিজ্ঞতা চাইলে পৌঁছে যেতেই হবে পুরুলিয়ার এক গোপন ঠিকানা—‘পাতালঘর’।
প্রকৃতির কোলে, লালমাটির দেশে গড়ে উঠেছে এই অভিনব হবিট হাউস। ঘরগুলো মাটির নীচে তৈরি—উপরে দেখা যায় শুধু দরজা আর দু’টি জানলা, বাকি অংশ পুরোপুরি মাটির তলায়। লেখক J. R. R. Tolkien-এর বিখ্যাত উপন্যাস The Lord of the Rings-এ যে হবিট হাউসের কল্পনা, তার বাস্তব রূপ দেখা যায় নিউজিল্যান্ডে। সেই রূপকথার স্বাদ এবার মিলছে বাংলার পুরুলিয়াতেও।
‘পাতালঘর’ অবস্থিত বাঘমুন্ডি-তে। বরাভূম থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে এই জায়গা। চারপাশ জুড়ে শাল, পলাশ আর পিয়ালের জঙ্গল, আর পেছনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে কুকুবুরু পাহাড়। এমন পরিবেশে ছুটি কাটানোর অভিজ্ঞতা সত্যিই অনন্য।
এখানে শুধু থাকার অভিজ্ঞতাই নয়, আশপাশে ঘোরার সুযোগও ভরপুর। কাছেই রয়েছে আড়ালকানালি, মার্বেল লেক, তুরগা ফলস, বামণী ফলস, সীতাকুন্ড, ময়ূর পাহাড়, পাখি পাহাড়, খয়রাবেড়া ড্যাম এবং চড়িদা-র মুখোশ গ্রাম। আপার ও লোয়ার ড্যামও রয়েছে দর্শনীয় তালিকায়।
কীভাবে যাবেন? ট্রেনে করে পুরুলিয়া বা বরাভূম স্টেশনে নামা যায়। পুরুলিয়া স্টেশন থেকে প্রায় ৫৪ কিলোমিটার এবং বরাভূম থেকে ১৮ কিলোমিটার পথ পেরোলেই বাঘমুন্ডি। সেখানেই রয়েছে পাতালঘরের হবিট হাউস। এখানে থাকার খরচ মাথাপিছু আনুমানিক ১৫০০ টাকা, আর টেন্টে থাকলে প্রায় ১০০০ টাকা।
দোলের রঙে যদি প্রকৃতির সান্নিধ্যে একটু অন্যরকম ছুটি কাটাতে চান, তবে পুরুলিয়ার এই পাতালঘর হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।



















