খেলা – একদিকে ধর্মশালার কনকনে ঠান্ডা, অন্যদিকে দুবাইয়ের শুষ্ক হাওয়া। মাঠ আলাদা, প্রতিপক্ষ আলাদা হলেও ছবিটা ছিল এক—ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত দাপটে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিল ভারত। সিনিয়র দলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে যেমন, তেমনই অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষেও শেষ হাসি হাসল নীল জার্সির দল।
ধর্মশালায় তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১১৬ রানে আটকে রাখা নিখুঁত দলগত বোলিংয়ের ফল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবাই উইকেটের ভাগ বসান। ইনিংসের শেষ দিকে কুলদীপ যাদব নটজে ও বার্টম্যানকে ফিরিয়ে প্রোটিয়া ইনিংসের ইতি টানেন। একবারও ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে এই ম্যাচে আলোটা সবচেয়ে বেশি পড়েছে বরুণ চক্রবর্তীর উপর। যেখানে ঠান্ডা আবহাওয়ায় পেসারদের বাড়তি সুবিধা ছিল, সেখানেই রহস্য স্পিনার চার ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট। শুধু পরিসংখ্যান নয়, তাঁর নিয়ন্ত্রণই ছিল আসল শক্তি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে ১৮ উইকেট, গড় ১০.৯৪—এই সংখ্যাগুলোই বলছে ২০২১ বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর কীভাবে বরুণ নিজেকে নতুন করে গড়েছেন। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতের ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হিসেবে তাঁর গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।
১১৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অভিষেক শর্মা প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে আক্রমণাত্মক বার্তা দেন। কিছুক্ষণ মনে হচ্ছিল, তিনি যেন অন্য পিচে ব্যাট করছেন। যদিও পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে তিনি আউট হয়ে যান, তখনও ভারতের স্কোর ৬০/১। এরপর শুভমন গিল ও তিলক বর্মা ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ শেষ করেন। লক্ষ্য ছোট হলেও পেস ও বাউন্সে ভারতীয় ব্যাটিং নিয়ে কিছু প্রশ্ন কিন্তু থেকেই গেল।
প্রায় একই চিত্র দেখা গেল দুবাইয়েও। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। ভারত তোলে ২৪০ রান। শুরুটা আক্রমণাত্মক হলেও মাঝপথে ধস নামে। সেই কঠিন সময়ে ইনিংস সামলে নেন অ্যারন জর্জ। শক্তির চেয়ে টাইমিং আর ধৈর্যে ভর করে তাঁর ৮৫ রানের ইনিংস হয়ে ওঠে ভারতের ভরসা। সঙ্গে কানিষ্ক চৌহানের ৪৬ রান ভারতের ইনিংসকে মজবুত ভিত দেয়।
জবাবে পাকিস্তান কখনওই ম্যাচে ফিরতে পারেনি। নতুন বলে দীপেশ দেবেন্দ্রন ধাক্কা দেন, তারপর একে একে উইকেট পড়তে থাকে। হুজাইফা আহসানের ৭০ রান ছাড়া আর কেউ প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও বল হাতে বৈভব সূর্যবংশী পাকিস্তান অধিনায়ক ফরহান ইউসুফকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ৯০ রানের বিশাল জয়ে ভারতের আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়।
ধর্মশালার ঠান্ডা হোক বা দুবাইয়ের গরম হাওয়া—বার্তা একটাই, বোলিং শক্তির জোরেই ভারত এখন দুই মঞ্চেই আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।




















