নগদ সহায়তার বদলে কাঠামোগত বদলের ইঙ্গিত, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে কী বলছে কেন্দ্রীয় আর্থিক সমীক্ষা

নগদ সহায়তার বদলে কাঠামোগত বদলের ইঙ্গিত, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে কী বলছে কেন্দ্রীয় আর্থিক সমীক্ষা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশ জুড়ে বর্তমানে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু রয়েছে, যার মধ্যে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প হিসেবে পরিচিত। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ধরনের স্কিমের মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত কেন্দ্রীয় আর্থিক সমীক্ষায় এই নগদ সহায়তা ভিত্তিক প্রকল্পগুলি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে, যা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সমীক্ষায় কোথাও সরাসরি এই প্রকল্পগুলি বন্ধ করার কথা বলা হয়নি। তবে অর্থ ব্যবহারের ধরন এবং প্রকল্প পরিচালনার কাঠামোতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে কি ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর মতো প্রকল্পগুলির রূপ বদলাতে চলেছে?
কেন্দ্রীয় আর্থিক সমীক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের উপর। সেখানে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র নগদ টাকা সরাসরি মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে সেই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করা অধিক কার্যকর। সমীক্ষার মতে, শিক্ষিত ও সুস্থ নাগরিকই দেশের প্রকৃত মানব সম্পদ, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত মজবুত করে।
সমীক্ষায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি সহায়তাকে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। অর্থাৎ কেবল আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বদলে মানুষের জন্য প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন কিংবা অ্যাপ্রেন্টিসশিপের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এতে উপভোক্তারা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক অবদান রাখতে পারবেন। এই লক্ষ্যেই ‘ওয়ার্ক-বেসড সাপোর্ট সিস্টেম’ চালুর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ব্যয়ের ধরন নিয়েও সমীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাজস্ব ব্যয়ের তুলনায় মূলধনী ব্যয় বা ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচারের উপর বেশি জোর দেওয়া উচিত। রাস্তাঘাট, স্কুল, হাসপাতাল, সেতু নির্মাণের মতো পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী সুফল নিশ্চিত করে।
এছাড়াও আর্থিক সমীক্ষায় দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা বিপুল যুবশক্তির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে ভারতে তরুণ প্রজন্মের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সমীক্ষার মতে, এই যুবসমাজকে যদি শুধুমাত্র নগদ সহায়তার উপর নির্ভরশীল করে রাখা হয় এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে দেশ একটি বড় সম্ভাবনা হারাবে। তাই তরুণদের প্রশিক্ষিত ও কর্মমুখী করে গড়ে তোলাকেই আগামী দিনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় আর্থিক সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ নয়, বরং সেগুলিকে আরও কার্যকর, কর্মসংস্থানমুখী এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করাই আগামী দিনে সরকারের অগ্রাধিকার হতে পারে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top