পূর্ব মেদিনীপুর – বুধবার নন্দীগ্রাম শহিদ তর্পণ দিবসের কর্মসূচিতে একের পর এক মন্তব্য করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের শাসক দল ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন। আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে পরিবর্তনের ডাকও দিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, “নন্দীগ্রাম আন্দোলনে সবচেয়ে লাভবান কে হয়েছেন?” তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন। তিনি বলেন, “তাঁকে যুব কংগ্রেসের নেত্রী করেছিলেন রাজীব গান্ধী, কিন্তু আসল সময়েই বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” সভায় তিনি কার্যত বলেন, “এরা আমাকে গদ্দার বলে, কিন্তু পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় গদ্দারের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
শুভেন্দু নন্দীগ্রাম আন্দোলনে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকাও মনে করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আপনি যদি নিজে বা দলের ক্ষমতায় মুখ্যমন্ত্রী হতেন, তাহলে ২০০১ সালেই মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন। কিন্তু নন্দীগ্রামের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, তাই আপনাকে ১৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।” নন্দীগ্রামের বিধায়কের মতে, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কারণে মমতা মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।
শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, তিনি নন্দীগ্রামে দাঁড়াবেন। সেই অনুযায়ী ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামে আসেন। নির্বাচনের ফলাফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জয়ী হন শুভেন্দু, যদিও এই জয়ের বিষয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তৃণমূল অভিযোগ করেছে, গণনাকেন্দ্রে লোডশেডিং করে জয়লাভ করেছে বিজেপি এবং হাইকোর্টেও মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
সভায় শুভেন্দু আরও বলেন, “১ লক্ষ ৮ হাজার ভোট পেয়েও গত পাঁচ বছরে একবারও নন্দীগ্রামে আসেননি। শহিদ পরিবারের অনেকেই এখনও মৃত্যুর শংসাপত্র পাননি, ক্ষতিপূরণও পাননি। ২০২৬-এর সাধারণ মানুষকে পাশে নিয়ে পরিবর্তন আনব।”




















