পূর্ব মেদিনীপুর – রয়েছে চেয়ার, আছে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় সরঞ্জাম, কিন্তু মানুষের দেখা মিলল না শুভেন্দু অধিকারীর স্বাস্থ্য শিবিরে। রবিবার নন্দীগ্রামে এমনই ছবি ধরা পড়ল, যেখানে তার শিবিরে জনসমাগম ছিল হাতে গোনা কয়েকজন। এর বিপরীতে একই দিনে ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরে মানুষের ঢল—হাজারো মানুষ সকাল থেকেই স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা নিচ্ছিলেন।
এই দিনটি ছিল ছুটির, তবুও শুভেন্দুর শিবিরের ফাঁকা চেয়ার ও অভাবী জনসংখ্যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই জেলার রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে। নন্দীগ্রামের মনোহরপুরে ইয়ংস্টার ক্লাবের মাঠে বিজেপির উদ্যোগে স্বাস্থ্য শিবির শুরু হলেও কার্যত জনমানুষ শূন্য। দুপুর পর্যন্ত কয়েকজন ছাড়া কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
স্থানীয়রা জানান, ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পে তারা হার্ট পরীক্ষা করিয়েছেন এবং পরে কলকাতায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। এতে ভুক্তভোগীরা সন্তুষ্ট। প্রলয় পাল, বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি বলেন, “আমাদের গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্য শিবির চলছে। প্রত্যেকদিনের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে মানুষ আনতে হচ্ছে না, তারপরও ভিড় বাড়ছে।”
বাপ্পাদিত্য গর্গ, নন্দীগ্রাম ১ ব্লক তৃণমূল কোর কমিটির সদস্য পাল্টা মন্তব্য করেছেন, “নন্দীগ্রামে বিজেপির পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর নন্দীগ্রামের ১৭টি অঞ্চলে সেবাশ্রয় শিবির হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এই দুই শিবিরের চিত্র ওলটপালট করতে পারে রাজনৈতিক সমীকরণ। যেখানে একদিকে জনসমাগম চোখে পড়ছে, অন্যদিকে প্রস্তুত সুবিধার মাঝেও জনশূন্যতা স্পষ্ট।




















