নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা ঝড়, ভাঙনের মুখে বিজেপি বোর্ড? চাপে শুভেন্দু শিবির

নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা ঝড়, ভাঙনের মুখে বিজেপি বোর্ড? চাপে শুভেন্দু শিবির

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


পূর্ব মেদিনীপুর – শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই নন্দীগ্রামের গ্রাম পঞ্চায়েতে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে পঞ্চায়েত বোর্ড ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকী বোর্ড তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে চলে যেতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা। খোদ বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari-র বিধানসভা কেন্দ্রেই এই ভাঙনের ছবি সামনে আসায় অস্বস্তিতে বঙ্গ-বিজেপি।
সূত্রের খবর, বিজেপির বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ ঘোষণা করে নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন প্রধান লক্ষ্মীকান্ত জানা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের বিজেপি পরিচালিত নন্দীগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই আবহে বিডিওর কাছে ৯ সদস্যের সই করা অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়েছে। ওই ৯ জনের মধ্যে ৬ জন তৃণমূল কংগ্রেস, ২ জন বিজেপি এবং ১ জন সিপিএম সদস্যা রয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিজেপিরই দুই সদস্যা পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও কোনও দলীয় পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। এই প্রশ্ন তুলে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন লক্ষ্মীকান্ত জানা। ফলে পঞ্চায়েত পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ।
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে নন্দীগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৯টি, তৃণমূল ৬টি এবং সিপিএম ২টি আসনে জয়ী হয়েছিল। সেই ভিত্তিতে বিজেপি বোর্ড গঠন করে লক্ষ্মীকান্ত জানাকে প্রধান করে। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই পঞ্চায়েতে নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। বিরোধী সদস্যদের পাশাপাশি বিজেপির একাংশও প্রধানের বিরুদ্ধে সরব হন। অভিযোগ, দীর্ঘদিন কোরামের অভাবে কোনও সভা আয়োজন করা যায়নি। প্রধান একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলেও ক্ষোভ তৈরি হয়।
অনাস্থা চিঠিতে বিজেপির দুই সদস্যা মৌসুমী তিওয়ারি ও দীপ্তিরানি নায়েক এবং সিপিএমের সদস্যা সামসুন নাহার সই করেছেন। দলেরই সদস্যারা অনাস্থায় সই করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লক্ষ্মীকান্ত জানা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যথাযথ পদক্ষেপ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। বর্তমানে পঞ্চায়েত অফিসে প্রধানের ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় পরিষেবা নিতে এসে বহু মানুষকে ফিরে যেতে হচ্ছে।
অন্যদিকে নন্দীগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শঙ্কু নায়েকের দাবি, বিজেপি পরিচালিত এই পঞ্চায়েতে গত আড়াই বছরে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি থেকে নজর ঘোরাতেই কর্মবিরতির নাটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। অবিলম্বে কর্মবিরতি প্রত্যাহার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ভোটের আগে নন্দীগ্রামে এই অচলাবস্থা রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top