নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, ১০ ডিসেম্বর, নিউটাউন যাত্রাগাছীর উদ্বাস্তু কলোনি যার বর্তমান নাম বিবেকানন্দ কলোনি। এই কলোনির বাসিন্দা বছর বিয়াল্লিশের মৃন্ময় মজুমদার(১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৮) ক্ষুদ্র কাঠের ব্যবসায়ী।২০০৪ সালে বিয়ে করেছেন তিনি। স্ত্রী এবং এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে তাঁর ছোট পরিবার।ছেলে নবম শ্রেণীতে ও মেয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াশোনা করে।গতকাল লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হওয়ায় ভীষন খুশি মৃন্ময়। এই কলোনির সকলেই ভীষন খুশি।
মৃন্ময় মজুমদারের কথায়, বাবা রাসবিহারী মজুমদারের কাছে গল্প শুনেছেন,১৯৭১ সালে দেশ ভাগের পর হিন্দুদের উপর শুরু হয় অত্যাচার। সেই সময় বাবা রাসবিহারী মজুমদার ও মা রাধালক্ষী মজুমদার, বড় দিদি এবং তিন দাদাকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে আসেন এ দেশে। বাড়ি ঘর পুকুর ও চাষের জমি ছেড়ে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশ থেকে এদেশে পালিয়ে এসেছিলেন বাবা। এদেশের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে দিন কাটিয়েছেন। কয়েক বছর পর এ দেশে আমার জন্ম হয়। কিন্তু তারপর বহু বছর কেটেছে উদ্বাস্তু তকমা নিয়ে বসবাস করছি। গতকাল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হওয়ায় ভীষন খুশি। মৃন্ময় এর মতো খুশি এই উদ্বাস্তু কলোনির প্রবীণ বাসিন্দা সুখরঞ্জন হাওলাদার। যিনি দেশ ভাগের সময় এ দেশে এসেছিলেন। ভীষন খুশি দেশ ভাগের কয়েক বছর পর এ দেশে আসা সুভাষ মল্লিকও।
গতকাল লোকসভায় পাস হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি)। সূত্রের খবর, ওই বিল অনুযায়ী পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা অ-মুসলিমরা মাত্র পাঁচ বছর শরণার্থী হিসেবে থাকলেই ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবেন। তবে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁদের এ দেশে এসে থাকতে হবে। অর্থাৎ, বিল পাশ হলে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-য় যিনি ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন, তিনি ওই মাসটা কাটিয়ে দিলেই নাগরিকত্ব পাওয়ার দাবিদার হবেন। ১৯৫৫ সালের মূল আইনে বলা ছিল, নাগরিকত্ব পেতে হলে এ দেশে থাকতে হবে ১১ বছর। কিন্তু প্রথম মোদী সরকারের আমলে আনা বিলটিতে তা কমিয়ে ছ’বছর করা হয়। এবার কমানো হল আরও এক বছর।



















