নাম বিকৃতির বিতর্কের জবাব রাজপথে, প্রজাতন্ত্র দিবসে ‘বাংলা ও বাঙালি অস্মিতা’র নীরব বার্তা পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলোয়

নাম বিকৃতির বিতর্কের জবাব রাজপথে, প্রজাতন্ত্র দিবসে ‘বাংলা ও বাঙালি অস্মিতা’র নীরব বার্তা পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলোয়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দিল্লি – সংসদে বাংলার মনীষীদের নাম উচ্চারণে একের পর এক বিতর্কের আবহে, প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে রাজপথে নীরব অথচ স্পষ্ট প্রতীকী বার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গ। এবছর রাজ্যের ট্যাবলোয় ‘বাংলা ও বাঙালি অস্মিতা’কে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের উদ্দেশে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
সম্প্রতি সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে উল্লেখ করেন। তার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র শেখাওয়াত তাঁকে ‘বঙ্কিমদাস’ বলেন। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যাল’ বলে ফেলেন। এই ঘটনাগুলিকে বাংলার মনীষীদের অপমান বলে অভিযোগ তুলে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য রাজনীতিতে বিষয়টি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষিতেই এবছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলোয় তুলে ধরা হয়েছে এক শক্তিশালী ঐতিহাসিক ন্যারেটিভ। ট্যাবলোর শুরুতেই রয়েছে ‘আনন্দমঠ’ রচনায় মগ্ন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিশাল মূর্তি। তাঁর পাশেই চিরচেনা ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
ট্যাবলোয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকা। শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ের বিখ্যাত মূর্তির আদলে ঘোড়ার পিঠে দেখা যাবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে। পাশাপাশি মেদিনীপুরের দুই শহিদ ক্ষুদিরাম বসু ও মাতঙ্গিনী হাজরার প্রতিকৃতিও ট্যাবলোয় আলাদা ভাবে স্থান পেয়েছে। ফাঁসির মঞ্চে দৃপ্ত ক্ষুদিরাম এবং তেরঙ্গা হাতে মাতঙ্গিনী হাজরার দৃশ্য দর্শকদের নজর কাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও ট্যাবলোয় রয়েছে চিত্তরঞ্জন দাশ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দ, কাজী নজরুল ইসলাম, মাস্টারদা সূর্য সেন, রাসবিহারী বসু-সহ একাধিক বিপ্লবী ও মনীষীর প্রতিকৃতি। স্বাধীনতা সংগ্রামের সাক্ষী ঐতিহাসিক আলিপুর জেলের প্রতিরূপও রাখা হয়েছে ট্যাবলোয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলার দুই শহিদ ক্ষুদিরাম বসু ও মাতঙ্গিনী হাজরাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে, মুখে কিছু না বলেও কৌশলী রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার।
এ প্রসঙ্গে রেসিডেন্ট কমিশনার অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অব ইনফরমেশন আশিস জানা জানান, দেশবাসীর সামনে বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরাই এই ট্যাবলোর মূল উদ্দেশ্য।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top