
নিজস্ব সংবাদদাতা,মালদা,২৫শে জুন : উলট পুরাণ৷ এবার নিজেদের পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ আনল বিজেপি৷ ঘটনাটি ঘটেছে পুরাতন মালদার মুচিয়া পঞ্চায়েতে৷ আজ সেখানে প্রধানকে ঘেরাও করে রাখেন সাধারণ মানুষ৷ আন্দোলনে ছিলেন বিজেপি সদস্যরাও৷ তাঁদের অভিযোগ, দলীয় সদস্যদের গুরুত্ব না দিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে পঞ্চায়েত পরিচালনা করছেন প্রধান৷ জবকার্ড হোল্ডারদের তালিকায় হোয়াইটনার লাগিয়ে তার উপর ভুয়ো নাম লেখা হচ্ছে৷ একই লোককে বার বার ১০০ দিনের কাজ জেওয়া হচ্ছে৷ এসব নিয়েই আজ ওই পঞ্চায়েত প্রধানকে ঘেরাও করা হয়৷ যদিও মালদা থানার পুলিশ ও বিএসএফ-এর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়৷ অবশ্য প্রধানের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে৷ গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়৷
১৬ আসনবিশিষ্ট মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০ জন সদস্য বিজেপির৷ বর্তমানে প্রধান শুভলক্ষ্মী গায়েন৷ তাঁর বিরুদ্ধেই ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে৷ এক পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী দেবকুমার বল্লভ বলেন, তাঁর বুথে ৪০০ জবকার্ড রয়েছে৷ তার মধ্যে মাত্র ৪০টি জবকার্ডে কাজ দেওয়া হয়েছে৷ এই ৪০ জনকেই বারবার কাজ দেওয়া হচ্ছে৷ বঞ্চিত হচ্ছে বাকি জবকার্ড হোল্ডাররা৷ তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁদের বুথের প্রত্যেক জবকার্ড হোল্ডারকে কাজ দিতে হবে৷ কিন্তু প্রধান আমার দাবি উড়িয়ে দেন৷ তাঁর স্ত্রী প্রধানের কাছে নিজের বুথের কাজকর্মের বিষয়ে জানতে চাইলেও তাঁকে কিছু জানানো হচ্ছে না৷ কয়েকজন বহিরাগত ছাড়া প্রধান কাউকে চেনেন না৷ একই বক্তব্য বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য রামলাল চৌধুরিরও৷
যদিও প্রধান শুভলক্ষ্মী গায়েন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷ তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে তা পুরোপুরি মিথ্যে৷ তাছাড়া আজ তাঁকে কেউ কিছু লিখিতভাবে জানায়নি৷ কেউ কোনও স্মারকলিপিও জমা দেয়নি৷ মাত্র একজন পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী এসব ঝামেলা পাকাচ্ছেন৷ সবচেয়ে বড়ো কথা, তাঁরা আগের বোর্ডের প্ল্যান অনুযায়ীই এখনও কাজ করে চলেছেন৷ নতুন কোনও স্কিম চালু করতে পারেননি৷ তাই পক্ষপাতিত্বের যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন৷



















