নদিয়া – নদীয়ার কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল ও বর্ধমান মেডিকেল কলেজ, বারাসতের বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ১২০ জনকে নিভৃতবাসে (Quarantine) পাঠানো হয়েছে। এই সকল ব্যক্তি ওই দুই নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে এই ১২০ জনকে তিন সপ্তাহের জন্য নিভৃতবাসে থাকতে হবে। নিপা ভাইরাস শনাক্তের জন্য তাদের থেকে রক্ত, মূত্র এবং গলার সোয়াব সহ একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও যারা সংস্পর্শে এসেছেন তাদের খোঁজ শুরু হয়েছে।
পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে আক্রান্ত নার্সের বাড়ি স্বাস্থ্য দপ্তরের তত্ত্বাবধানে সিল করা হয়েছে এবং এলাকাটি সম্পূর্ণভাবে স্যানিটাইজ করা হয়েছে। ওই নার্সকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসক ও নার্সদেরও নিভৃতবাসে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় চারজন নার্স, দুইজন চিকিৎসক এবং একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক রয়েছেন। তাঁদের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখা হচ্ছে।
নিপা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (NCDC) থেকে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ন্যাশনাল জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে কাজ করবে। এই টিমে কলকাতা, কল্যাণী, ভুবনেশ্বরের AIIMS এবং পুনের NIV-এর চিকিৎসকসহ মোট পাঁচজন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে ফোনে এই বিষয়ে কথা বলেছেন।
পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম জানিয়েছেন, কাটোয়ায় আক্রান্ত নার্সের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে এখনও নিশ্চিতভাবে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। তবে সন্দেহজনক হিসেবে সকলকে নিভৃতবাসে রাখা হয়েছে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য ভবনের এসওপি অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ ও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালটিতে ভেন্টিলেটার এবং আইসোলেশনসহ ৮টি বেডের ওয়ার্ড সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সোমবার রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী সর্বপ্রথম নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের কথা ঘোষণা করেছিলেন।



















