নিয়ামতপুরে রোমহর্ষক শুটআউট, খুন জাভেদ বারিক

নিয়ামতপুরে রোমহর্ষক শুটআউট, খুন জাভেদ বারিক

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



পশ্চিম বর্ধমান – পশ্চিম বর্ধমান জেলার কুলটি থানার অন্তর্গত নিয়ামতপুর রহমান পাড়ায় শুক্রবার রাত ১০টা নাগাদ রক্তাক্ত শুটআউটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতের অন্ধকারে মোটরবাইক চেপে দুই দুষ্কৃতী আচমকাই হাজির হয় এবং খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে খুন করে জাভেদ বারিক নামে এক ব্যক্তিকে। ঘটনার মুহূর্তটি রাস্তার সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।

ফুটেজে দেখা যায়, রাস্তার ধারে বাইক নিয়ে অপেক্ষা করছিল দুই দুষ্কৃতী। ঠিক সেই সময় জাভেদ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। আচমকা তাঁর পিছনে ধাওয়া করে দুষ্কৃতীরা কপাল লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন জাভেদ। এরপর দ্রুত বাইক নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় জাভেদকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত জাভেদ বারিক কয়েক বছর আগে আসানসোল পুরনিগমের অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি জলপাইগুড়িতে বসবাস করতেন, যেখানে তাঁর জমি-জায়গা রয়েছে। কয়েকদিন আগে তিনি নিয়ামতপুরে নিজের পৈতৃক বাড়িতে এসেছিলেন।

ঘটনার খবর পেয়ে কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় এই শুটআউটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুষ্কৃতীদের এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, নিয়ামতপুর লাগোয়া অঞ্চলে বেশ কিছুদিন ধরেই দুষ্কৃতীদের দাপাদাপি বাড়ছে, শুক্রবার রাতের এই ঘটনা সেই আশঙ্কাকে আরও গভীর করেছে।

এ বিষয়ে এসিপি জাভেদ হুসেন জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং গুলি চালানো দু’জন দুষ্কৃতীর পরিচয় জানতে চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক তদন্তে খুনের সঠিক কারণ স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এই খুন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি জাভেদের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ, তাঁর সঙ্গে কারও বিবাদ বা বিরোধ ছিল কি না, সেটিও পুলিশের নজরে রয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় নিয়ামতপুর এবং আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকায় ঘটে আরেকটি নৃশংস খুন। এস এম ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি চামড়ার কারখানার কর্মী বিলকিস বিবিকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। পুলিশ সূত্রে প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক টানাপোড়েন থেকেই এই হত্যাকাণ্ড।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ ছুটি শেষে কারখানা থেকে বেরোনোর সময় বাইকে করে দুই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী এসে একের পর এক ধারালো অস্ত্রের কোপ হানে বিলকিসের ওপর। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। চিৎকার শুনে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

দুই দিনের ব্যবধানে দুটি নৃশংস খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top