নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘সংবিধান লঙ্ঘন’-এর অভিযোগ, কড়া চিঠিতে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘সংবিধান লঙ্ঘন’-এর অভিযোগ, কড়া চিঠিতে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য- বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিরোধী দলগুলি যখন আংশিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে, তখন পূর্ণাঙ্গ তালিকা ঘোষণা করে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক ময়দানে চাপ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি কড়া ভাষায় চিঠি পাঠান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-কে, যেখানে কমিশনের কাজকর্মকে ‘সংবিধানের সীমা লঙ্ঘন’ বলে অভিযোগ করেন।
এর আগে দিনেই নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে যেভাবে একের পর এক প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি করা হচ্ছে, তা দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। তবে সেই মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া না মেলায় সন্ধ্যায় সরাসরি চিঠি পাঠান তিনি। চিঠিতে তিনি লেখেন, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী সৌজন্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং বিশেষত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ প্রক্রিয়ার সময় নেওয়া পদক্ষেপে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
চিঠিতে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের হঠাৎ বদলির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, আইজি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্রুত বদলিকে তিনি ‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, ডিএম, এসপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ভিন রাজ্যে নির্বাচনী দায়িত্বে পাঠানোয় বাংলার প্রশাসনিক কাঠামো কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, মার্চ-এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা বেশি থাকে, সেই সময় স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ আধিকারিকদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তাঁদের সরিয়ে দেওয়ায় বিপর্যয় মোকাবিলা এবং জনজীবন স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে। বাইরে থেকে আসা আধিকারিকদের পক্ষে স্থানীয় ভাষা ও পরিস্থিতি দ্রুত বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন বলেও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন।
এই পরিস্থিতিতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, এর আগেও সাতবার চিঠি লিখেছিলেন তিনি জ্ঞানেশ কুমার-কে। এদিনের চিঠিটি অষ্টম। সেখানে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, কমিশনের তড়িঘড়ি পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করছে এবং নির্বাচিত সরকারকে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা ‘পরোক্ষ জরুরি অবস্থা’-র সামিল। একইসঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনকে জনস্বার্থ ও সংবিধানের প্রতি সম্মান রেখে কাজ করার আহ্বান জানান।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top