নেশার জালে দক্ষিণ দিনাজপুর, চোলাই বন্ধ হলেও আঠা-কাশির সিরাপ-ব্রাউন সুগারে বিপজ্জনক বিস্তার

নেশার জালে দক্ষিণ দিনাজপুর, চোলাই বন্ধ হলেও আঠা-কাশির সিরাপ-ব্রাউন সুগারে বিপজ্জনক বিস্তার

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram

দক্ষিণ দিনাজপুর – দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় নেশা সামগ্রীর তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। কাশির সিরাপ, আঠা, ঘুমের ওষুধ, ব্যথার ইঞ্জেকশন থেকে শুরু করে ব্রাউন সুগার—প্রায় সব ধরনের নেশাই এখন সহজলভ্য। সন্ধ্যা নামলেই জেলার বিভিন্ন নির্জন জায়গা পরিণত হচ্ছে নেশাখোরদের অবাধ বিচরণক্ষেত্রে। কলেজপড়ুয়া থেকে শুরু করে শিশু—কেউই এই নেশার ছোবল থেকে বাদ যাচ্ছে না।
জেলা পুলিশের তৎপরতায় দক্ষিণ দিনাজপুরের অধিকাংশ এলাকায় চোলাই মদের ঠেক প্রায় নিশ্চিহ্ন। বহু জায়গায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে চোলাইয়ের আস্তানা, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভাটিখানা। কিন্তু তাতেও নেশার দৌরাত্ম্য কমেনি। চোলাই বন্ধ হলেও ‘উইথড্রোল সিনড্রোম’-এর ভয়াবহতায় আরও বিপজ্জনক নেশার দিকে ঝুঁকছে আসক্তরা। ঘুমের ওষুধ, মরফিনজাত কাশির সিরাপ ও ব্রাউন সুগার এখন নেশার নতুন ঠিকানা হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে—এই সব ঠেক কোথায় চলছে, প্রশাসনের কি আদৌ নজর আছে?
স্কুল ও কলেজের মাঠ, সিনেমা হলের আশপাশ, ফাঁকা নির্জন জায়গা পেলেই বসছে নেশার আসর। মূলত গাঁজা ও আঠার নেশাই সেখানে বেশি দেখা যাচ্ছে। হিলি, বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর-সহ জেলার একাধিক এলাকায় দিন দিন বাড়ছে নেশাগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা। বালুরঘাট শহরের বাসস্ট্যান্ড, কলেজপাড়া, নদীপাড়, শ্মশান সংলগ্ন পার্ক এবং গঙ্গারামপুরের হাইস্কুল পাড়া, রবীন্দ্রভবন এলাকা, গলাকাটা কলোনি, বুনিয়াদপুর চৌমাথা মোড়—শহর থেকে গ্রামগঞ্জ সর্বত্রই সহজে মিলছে মাদক।
অভিযোগ, মাত্র ৫০০ টাকায় মিলছে এক পুরিয়া ব্রাউন সুগার। পুলিশ ও গোয়েন্দাদের কাছে এই তথ্য থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে রমরমিয়ে চলছে এই অবৈধ ব্যবসা। একই সঙ্গে ওষুধের দোকানগুলিতেও বেআইনিভাবে ঘুমের ওষুধ ও কাশির সিরাপ বিক্রি করে লাভের অঙ্ক বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই চলছে ওষুধ বিক্রি। ঘুম না আসা, মাথা ঝিমঝিম করার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে মানুষ ছুটছে ওষুধের দোকানে—কেউ ঘুমের ওষুধ, কেউ কাশির সিরাপ চাইছে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিপজ্জনক নেশা হিসেবে উঠে এসেছে আঠা। আঠার নেশায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়ারা, এমনকি শিশুরাও। প্লাস্টিকের প্যাকেটে আঠা ঢেলে নাক-মুখ দিয়ে নিশ্বাসের সঙ্গে টেনে নিয়ে আচ্ছন্ন থাকছে তারা। মুদিখানা থেকে পান-সিগারেটের দোকান—সর্বত্রই মিলছে এই আঠা। নেশাগ্রস্তদের দাবি, পকেটে ভরে নির্জনে চলে গেলেই নেশা করা যায়, কোনও ঝামেলা নেই।
এর পাশাপাশি কিছু কাফ সিরাপের নেশাও ছড়াচ্ছে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গোপন আস্তানায়। অবৈধভাবে কাফ সিরাপ পাচারের অভিযোগে একাধিকবার পাচারকারীরা পুলিশের জালে ধরা পড়লেও ব্যবসা থামেনি। জেলা পুলিশের কর্তাদের বক্তব্য, যেসব এলাকায় দোকানদাররা নেশার ওষুধ দিতে অস্বীকার করছেন, সেখানে ব্রাউন সুগারের বিক্রি বেড়ে যাচ্ছে। গত কয়েক মাসে একাধিক ড্রাগ প্যাডলার ও ড্রাগ সেলার গ্রেফতার হলেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। নেশাজাত দ্রব্য যাতে শহর ও গ্রামে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারির দাবি উঠছে সর্বত্র।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top