নৈহাটির কাউন্সিলরের নামও ‘ডিলিটেড’, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘিরে নতুন বিতর্ক

নৈহাটির কাউন্সিলরের নামও ‘ডিলিটেড’, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘিরে নতুন বিতর্ক

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


উত্তর 24 পরগণা – West Bengal Assembly Elections 2026-এর আগে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। শনিবার প্রকাশিত Election Commission of India-র চূড়ান্ত নির্বাচনী রোলে উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত সরকার এবং তাঁর মা আরতি সরকারের নাম ‘ডিলিটেড’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত তালিকায় তাঁদের নামের পাশেই ‘ডিলিটেড’ উল্লেখ রয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির নামই যদি তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তা হলে সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কী হতে পারে—এই প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির। স্থানীয় স্তরে এই ঘটনা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে All India Trinamool Congress। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা অভিযোগ করেছে, খসড়া তালিকার পর চূড়ান্ত তালিকাতেও কারচুপি করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্ন তোলা হয়েছে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতেই কি একের পর এক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, নাকি দায় এড়াতে আবারও বিএলওদের ঘাড়ে দোষ চাপানো হবে?
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, খসড়া থেকে চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত রাজ্যে মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২। যদিও চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও এখনও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে রয়েছে, যা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
এসআইআর-এর আগে বাংলায় মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। সংশোধন প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এত বড় প্রক্রিয়ায় কিছু ছোটখাটো ভুলভ্রান্তি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ত্রুটির অভিযোগও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে যাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের ফের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। উপযুক্ত নথি থাকলে প্রথমে জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছে এবং সেখানে সন্তুষ্ট না হলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আবেদন জানানো যাবে বলে জানিয়েছেন মনোজ আগরওয়াল। ফলে বিতর্কের আবহে সংশোধনের পথ খোলা থাকলেও রাজনৈতিক তরজা যে থামছে না, তা স্পষ্ট।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top