নোবেলজয়ী মানবাধিকার কর্মী নার্গিস মহম্মদির সাজা আরও বাড়াল ইরান

নোবেলজয়ী মানবাধিকার কর্মী নার্গিস মহম্মদির সাজা আরও বাড়াল ইরান

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ – নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মানবাধিকার কর্মী নার্গিস মহম্মদির বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নিল ইরান। দেশের অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁকে অতিরিক্ত সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নার্গিসের আইনজীবী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরানের প্রশাসনের দাবি, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগে এই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ষড়যন্ত্র ও যোগসাজোসের অভিযোগে নার্গিসকে ছয় বছরের কারাদণ্ড এবং মত ও নীতি প্রচারের পরিকল্পনার অভিযোগে আরও দেড় বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর উপর দু বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। এছাড়া, তাঁকে খুসখু অঞ্চলে দু বছরের জন্য নির্বাসনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমর্থকদের অভিযোগ, অনশনে বসার পরই তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে এই সাজা ঘোষণা করা হয়।
গত ডিসেম্বর মাসে মাশহাদ শহরে মানবাধিকার আইনজীবী খসরু আলিকোর্দিকে সম্মান জানাতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে নার্গিসকে গ্রেফতার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, গ্রেফতারের সময় তাঁকে মারধর করা হয় এবং পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৪ ডিসেম্বরের পর প্রথমবার তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন আইনজীবী।
নার্গিস মহম্মদি দীর্ঘদিন ধরে ইরানে বাকস্বাধীনতা, নারীর অধিকার ও মানবাধিকারের পক্ষে সরব ছিলেন। বিশেষ করে ইরানি নারীদের উপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক স্তরে আলোড়ন তোলে। এই নিরবচ্ছিন্ন লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে সম্মানিত হন।
এর আগেও একাধিকবার নিপীড়নের শিকার হয়েছেন নার্গিস। ইরান কর্তৃপক্ষ তাঁকে অন্তত ১৩ বার গ্রেফতার করেছে এবং পাঁচবার দোষী সাব্যস্ত করেছে। ২০১১ সাল থেকে একাধিক দফায় তাঁকে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। বর্তমানে ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর’ অভিযোগে তিনি তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে মোট ৩১ বছরের সাজা ভোগ করছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, নার্গিসের বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আরও একবার কঠোর আঘাত।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top