রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু করেছে। রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে গোটা রাজ্যে মোতায়েন করা হবে কয়েক হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষায় নাকা চেকিং থেকে বুথের বাইরে পর্যন্ত চালু হচ্ছে লাইভ স্ট্রিমিং ব্যবস্থা।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এপ্রিল মাসে দু’দফায় অনুষ্ঠিত হবে। তৃণমূল ইতিমধ্যেই ২৯১ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বিজেপি ও সিপিএমও দু’দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে, কংগ্রেস এখনও ঘোষণা করেনি।
প্রতি দফায় মোতায়েন থাকবে প্রায় ২,৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, অর্থাৎ আড়াই লক্ষ জওয়ান। কমিশন ইতিমধ্যেই রাজ্যের ডিজি ও কলকাতা পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেছে কোন জেলায় কত বাহিনী প্রয়োজন এবং কোথায় বেশি নজরদারি লাগবে তা ঠিক করতে।
এবার শুধু বুথের ভেতর নয়, আশপাশের ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’-তেও নজরদারি জোরদার হচ্ছে। যদি ওই এলাকায় হুমকি, ভয় দেখানো বা হিংসার প্রমাণ মেলে, তবে বুথের ভেতরে শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের মূল লক্ষ্য আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা। ভোট প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে দায়বদ্ধতা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। প্রতি জেলায় দু’জন পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকবেন এবং কমিশনারেটে আরও দু’জন থাকবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা নির্দিষ্ট সময়ের আগে বুথে পৌঁছে পুরো এলাকা স্যানিটাইজ ও নিরাপদ করবেন। ভোটের দিন প্রতিটি বুথে নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনী পালন করবে।
এপর্যন্ত প্রশাসন ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩টি বোমা এবং ৩৯টি কার্তুজ উদ্ধার করেছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য জোর তল্লাশি চলছে। এছাড়া, ১৬ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যে মোট ২৫,৩৮০টি নন-বেলেবল ওয়ারেন্ট ছিল, যার মধ্যে ৮৯৩টি নিষ্পত্তি বা কোর্টে ফেরত দেওয়া হয়েছে।



















