বিদেশ – আরব দুনিয়ায় সংঘাতের আবহ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজার, জ্বালানি সরবরাহ এবং কূটনৈতিক সমীকরণে। এই পরিস্থিতিতেই সোমবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফোনে কথা বলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও-র সঙ্গে। পশ্চিম এশিয়ার চলতি সংঘাত কীভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে, সেই বিষয়েই মূলত আলোচনা হয় দুই দেশের মধ্যে।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে জয়শঙ্কর জানান, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তার অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ভারত-সহ একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে সংঘাত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি দাবি করেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, গত দুই দিনে তেহরান-এর সঙ্গে “খুব ভাল ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে সরাসরি খারিজ করেছে ইরান। ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এক্স-এ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক তেলবাজার ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতেই ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, ইরানের জনগণ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ চায় এবং দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব সর্বোচ্চ নেতার পাশে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
একদিকে আমেরিকার কূটনৈতিক অগ্রগতির দাবি, অন্যদিকে ইরানের সম্পূর্ণ অস্বীকার—এই বিপরীত অবস্থান গোটা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে বিশ্ববাজার, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার ছায়া আরও ঘন হচ্ছে। ভারত-আমেরিকা আলোচনাও স্পষ্ট করে দিচ্ছে, এই সংঘাত যে কোনও সময় বড় আকার নিতে পারে, আর সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে।




















