পূর্ব মেদিনীপুর – পাঁশকুড়ার কুমরপুর হাটেশ্বর হাইস্কুলে ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে—ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর জলের বোতলে ঘাস মারা বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের তির ক্লাসেরই ফার্স্ট বয়ের দিকে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। প্রধান শিক্ষক গণেশচন্দ্র দাস ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সহ্যযোগ্য নয়, তাই পুলিশকে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা ঘটেছে বুধবার। স্কুল সূত্রে খবর, ছাত্রীটি জল খাওয়ার পরই অসুস্থ বোধ করে। সন্দেহ হওয়ায় শিক্ষকরা তাঁর বোতল পরীক্ষা করেন। সেখানে ঘাস মারা বিষের গন্ধ পাওয়া যায়। এরপর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। ক্লাসেরই এক ছাত্র জানায়—ফার্স্ট বয়ের নির্দেশে সে ওই বোতলে বিষ মিশিয়েছে। এই স্বীকারোক্তির পর স্কুলজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়।
কেন এমন ভয়াবহ কাণ্ড? শিক্ষকরা অনুমান করছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতার চাপ থেকেই এমন অপরিণত সিদ্ধান্ত। পরীক্ষায় পিছিয়ে যাচ্ছিল ফার্স্ট বয়, আর যে ছাত্রীটির বোতলে বিষ মেশানো হয়েছে, সে নাকি ফলাফলে তাকে ছাপিয়ে যাচ্ছিল। নিজের অবস্থান ধরে রাখতে শিশুমনেই জন্ম নিয়েছে ভয়ঙ্কর প্রবণতা—এমনটাই মনে করছেন শিক্ষক মহল।
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রদের মনে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাঁদের কথায়, এত ছোট বয়সেই এমন নিষ্ঠুরতা অত্যন্ত চিন্তার বিষয় এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরাট প্রশ্ন তুলে দেয়।
পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে পাঁশকুড়ার এই ঘটনার পর স্কুলগামী শিশুদের প্রতিযোগিতার চাপ, মানসিক বিকাশ এবং পরিবেশ কতটা নিরাপদ—তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।




















