বিদেশ – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘পাকিস্তান-তোষণ নীতি’ই ভারত–আমেরিকার সম্পর্ককে বিপর্যস্ত করেছে—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন পেন্টাগনের প্রাক্তন আধিকারিক মাইকেল রুবিন। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের চরম অযোগ্যতা এবং কূটনৈতিক অপরিণত আচরণের কারণেই ভারত–রাশিয়া ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতারের কাছ থেকে ট্রাম্প ঘুষ পেয়েছিলেন বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।
এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিন বলেন, “ট্রাম্প যেভাবে কয়েক বছরের মধ্যে ভারত–আমেরিকার সম্পর্ক ওলটপালট করে দিলেন, তাতে আমরা হতচকিত। কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন? সম্ভবত পাকিস্তানের চাটুকারিতাতেই মজেছিলেন তিনি।” তাঁর আরও দাবি, “ট্রাম্পের সৃষ্ট কূটনৈতিক বিপর্যয়ের জেরে আগামী কয়েক দশক ধরে আমেরিকাকে কৌশলগত ঘাটতির মুখোমুখি হতে হবে।”
ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে মার্কিন দ্বিচারিতাকেও কাঠগড়ায় তোলেন রুবিন। তাঁর কথায়, “ওয়াশিংটন নিজে মস্কোর সঙ্গে ব্যবসা করে, আর ট্রাম্প ভারতকে রুশ তেল কেনা নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছেন! ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ, শীঘ্রই তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হতে চলেছে। তারা নিজেদের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেবে—এটাই স্বাভাবিক।”
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ‘অন্যায্য’ দাবির কাছে ভারত নত না হওয়ায় দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি অগ্রগতি পায়নি। রুশ তেল কেনায় ভারতকে কঠোর সতর্কবার্তাও দেয় আমেরিকা, আরোপ করা হয় ৫০ শতাংশ শুল্ক। হোয়াইট হাউস জানিয়ে দেয়—বাণিজ্য চুক্তির গতি না বাড়লে শুল্ক নিয়ে আলোচনাও হবে না। মাঝেমধ্যে সুর নরম করলেও বাস্তবে বিশেষ কিছু এগোয়নি।
ট্রাম্পের এই অবস্থান শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্কে স্থায়ী ক্ষত তৈরি করবে কি না—তার উত্তর দেবে সময়ই।




















