পারফরম্যান্সভিত্তিক কড়া সিদ্ধান্তে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা, ৭৪ বিধায়ক বাদ

পারফরম্যান্সভিত্তিক কড়া সিদ্ধান্তে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা, ৭৪ বিধায়ক বাদ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – তৃণমূল কংগ্রেসের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থিতালিকা যেন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—“কাজ না করলে দলে জায়গা নেই।” ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ককে সরিয়ে এবং আরও ১৫ জনকে কেন্দ্র বদল করে দল যে কঠোর পারফরম্যান্স-ভিত্তিক পথে হাঁটছে, তা প্রার্থী ঘোষণার দিনই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কালীঘাটে প্রার্থী ঘোষণা পর্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় উপস্থিতি এবং শেষ তালিকা ঘোষণার দায়িত্ব সামলানোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল “পারফর্ম অর পেরিশ” নীতি এবার বাস্তবে প্রয়োগ হতে চলেছে। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে বিধায়কদের কাজ, জনসংযোগ এবং সংগঠনের সক্রিয়তা খতিয়ে দেখে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর ফলে এক ধাক্কায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বর্তমান বিধায়ক বাদ পড়েছেন বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তকে কেবল সংখ্যা নয়, একটি বার্তা হিসেবেও দেখছে রাজনৈতিক মহল।
১৫ জন বিধায়ককে কেন্দ্র বদল করা হয়েছে। দলের মতে, পুরনো ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে নতুন এলাকায় নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে স্থানীয় অসন্তোষ কমানো এবং সংগঠনকে নতুনভাবে সক্রিয় করার কৌশলও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এই তালিকা কেবল পরিবর্তনের নয়, পুনর্গঠনের ইঙ্গিতও দিচ্ছে।
বাদ পড়া নামের তালিকায় রয়েছেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী, সাবিত্রী মিত্র, সৌমেন মহাপাত্র, কাঞ্চন মল্লিক ও চিরঞ্জিত চক্রবর্তী-সহ একাধিক পরিচিত মুখ। পাশাপাশি চারজন মন্ত্রীও এবার টিকিট পাননি বলে জানা গেছে। দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় জড়িত কয়েকজনের বাদ পড়া রাজনৈতিক বার্তাকে আরও জোরালো করেছে।
অন্যদিকে, সংগঠনে সক্রিয় এবং নতুন মুখদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কৈলাস মিশ্র, জাহাঙ্গির খান, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য ও দেবাংশু ভট্টাচার্যের মতো নেতাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন সাংবাদিক দেবদীপ পুরোহিতের মতো তরুণ মুখকেও প্রার্থী করে নবীন-প্রবীণের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে শহর ও মফস্বলের দুর্বল এলাকাগুলিতে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও দলীয় সূত্রের দাবি। ফলে এই তালিকাকে শুধু প্রার্থী ঘোষণা নয়, বরং এক ধরনের “কারেকশন প্ল্যান” হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সমীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সমীক্ষা করে একাধিক নামের প্যানেল তৈরি করা হয় এবং সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সব মিলিয়ে তৃণমূলের এই প্রার্থী তালিকা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—দলে জায়গা পেতে হলে কাজের প্রমাণ অপরিহার্য।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top