পিকনিককে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্কে তাণ্ডব, বোমাবাজি ও গুলি চালানোর অভিযোগে উত্তেজনা

পিকনিককে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্কে তাণ্ডব, বোমাবাজি ও গুলি চালানোর অভিযোগে উত্তেজনা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা – খাস কলকাতায় ফের অশান্তির ছবি। পিকনিককে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক এলাকায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে বোমাবাজি ও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত দু’জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিক বাইক ও স্কুটিতে ভাঙচুর চালান। এমনকি পুলিশের গাড়িতেও হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানার অন্তর্গত কাঁকুলিয়া রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওইদিন এলাকায় একটি পিকনিক ছিল। পিকনিক শেষে রাত সাড়ে আটটার কিছু পরে তাঁরা এলাকায় ফেরার সময় অন্য এলাকার কয়েকজন যুবককে সেখানে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। অভিযোগ, হঠাৎই ওই যুবকেরা এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে।
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এলাকার মহিলারা আতঙ্কে ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়েন। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দুষ্কৃতীদের বাধা দিতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। শুরু হয় ইটবৃষ্টি। ইটের আঘাতে কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ। রাস্তায় রক্তের দাগও দেখা যায়।
অভিযোগ আরও গুরুতর। স্থানীয়দের দাবি, গোলমালের মধ্যেই দুষ্কৃতীরা বোমা ছোড়ে এবং অন্তত এক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। পরে এলাকা থেকে গুলির খোল ও বোমার ভাঙা অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় দু’জন আহত হওয়ার খবর মিলেছে।
এই ঘটনার নেপথ্যে দক্ষিণ কলকাতার দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর গ্যাংয়ের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাসিন্দাদের দাবি, এলাকা দখলের উদ্দেশ্যেই সোনা পাপ্পু তার অনুগামীদের পাঠিয়েছিল। এমনকি একটি দলীয় অফিসে হামলা চালানোর পরিকল্পনাও ছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশ এসে উত্তেজিত জনতাকে সরানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ, সেই সময় জনতার একাংশ পুলিশের গাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই কয়েকটি বাইক ও স্কুটি ভাঙচুর হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছান স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। এলাকায় আপাতত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top