পুতিনের সফরে দিল্লি–মস্কো সম্পর্কের নতুন দিশা, বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা—সব খাতে বড় রূপরেখা তৈরি

পুতিনের সফরে দিল্লি–মস্কো সম্পর্কের নতুন দিশা, বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা—সব খাতে বড় রূপরেখা তৈরি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দেশ – ভারত সফর শেষ করে শুক্রবার রাতেই দেশে ফিরে গেলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মাত্র ২৮ ঘণ্টার ব্যস্ত সূচিতেই রাষ্ট্রপতি ভবনের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা থেকে ব্যাঙ্কোয়েট হলে মোদী-পুতিনের পাশাপাশি বসা, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বক্তব্য—সব মিলিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে শক্তিশালী বার্তা দিল দুই দেশ। সফর শেষে পুতিনকে বিদায় জানান বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর।

এই সফরেই সম্পন্ন হয়েছে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলন এবং একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি ‘মেগা রূপরেখা’ ঠিক হয়েছে, যার লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছে দেওয়া। রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভারতকে নিরবচ্ছিন্নভাবে তেল সরবরাহ করবে মস্কো। পাশাপাশি জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পারমাণবিক শক্তি—সব ক্ষেত্রেই যৌথ উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে দুই দেশ।

সফরের অন্যতম বড় ঘোষণা চেন্নাই থেকে ভ্লাদিভোস্টক পর্যন্ত সরাসরি সমুদ্রপথ চালুর রূপরেখা। ইন্টারন্যাশনাল নর্থ সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোরে নতুন গতি এনে এই পথ ভারত-রাশিয়ার বাণিজ্যের সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায়ও এসেছে নতুন প্রতিশ্রুতি। তামিলনাড়ুর পারমাণবিক কেন্দ্র দ্রুত সম্পূর্ণ করার আশ্বাস দিয়েছেন পুতিন। পাশাপাশি ইসরো এবং রসকোসমস ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণা, উপগ্রহ প্রযুক্তি ও অভিযানে যৌথভাবে কাজ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও দুই দেশ একবাক্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। মোদীর মন্তব্য—‘পহেলগাম থেকে ক্রোকাস সিটি হল—ঘটনার উৎস এক’, বৈঠক শেষে সে বার্তাই আরও জোরদার করে তুলেছে। সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন থেকে যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র আওতায় যৌথ প্রতিরক্ষা উন্নয়ন নিয়েও নতুন সমঝোতা হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান গবেষণা, পর্যটন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারস্পরিক সমর্থন জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দিল্লি ও মস্কো।

কূটনৈতিক মহলের মতে, পুতিনের এই সফর ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায় খুলে দিল। বাণিজ্য, জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতের সহযোগিতার পথ আরও সুদৃঢ় করে ফেলল দুই দেশ।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top