রাজ্য – গত শনিবার রাজ্যে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই তালিকায় প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং ‘বিচারাধীন’ হিসেবে ঝুলে রয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম। ধাপে ধাপে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও তার আগেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বামেরা। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবিতে সিইও দপ্তরের সামনে লাগাতার বিক্ষোভে নেমেছে বামপন্থী দলগুলি।
বুধবার খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটান আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়ান বাম নেত্রী Meenakshi Mukherjee-সহ একাধিক বাম নেতৃত্ব। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Agarwal দেখা না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। এদিন বিকেল তিনটের সময় বামেদের একটি সমাবেশও ডাকা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে মীনাক্ষী বলেন, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া চলবে না। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় ভোটারদের নাম বাদ পড়লেও কমিশনের আধিকারিকরা বহাল তবিয়তে থাকছেন—এটা মেনে নেওয়া যায় না। সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে ডেপুটেশন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাম নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, বুধবার টি বোর্ডের সামনে থেকে শুরু হওয়া বামেদের মিছিলে অংশ নেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান Biman Bose, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক Mohammad Salim এবং বাম নেতা Sujan Chakraborty। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই সিইও দপ্তরে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা।
তবে সিইও মনোজ আগরওয়াল তাঁদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি। অধস্তন এক আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে বলা হলেও বাম নেতৃত্ব তা মানতে চাননি। তাঁদের দাবি, স্মারকলিপি সরাসরি সিইও-র হাতেই তুলে দিতে হবে। এরপরই আন্দোলনকারীরা সিদ্ধান্ত নেন সিইও দপ্তরের সামনেই অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। বুধবার থেকে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন বৃহস্পতিবার সকালেও অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে এই কর্মসূচিকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে Kolkata Police। সিইও দপ্তরের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে একাধিক পুলিশকর্মী। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে উপস্থিত রয়েছেন লালবাজারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও।




















