উত্তরবঙ্গ – প্রবল তুষারপাতের জেরে কার্যত বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশের শৈলশহরগুলি। বরফে ঢেকে গিয়েছে রাস্তাঘাট, থমকে দাঁড়িয়েছে যান চলাচল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য গাড়ি। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন হিমাচলের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মানালিতে আসা পর্যটকেরা।
সূত্রের খবর, কোঠি থেকে মানালি যাওয়ার পথে প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশ জুড়ে ভয়াবহ ট্র্যাফিক জ্যাম তৈরি হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাজ্য জুড়ে তুষারপাতের জেরে মোট ৬৮৫টি রাস্তা বন্ধ হয়ে রয়েছে। ২৩ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা সপ্তাহান্তের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক মানালিতে ভিড় জমান। ঠিক সেই সময়েই শুরু হয় তুষারপাত ও বৃষ্টিপাত। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একধাক্কায় নেমে গিয়েছে তাপমাত্রাও।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বহু পর্যটক হোটেল থেকে বেরোতে পারছেন না। ফলে মানালির হোটেলগুলি প্রায় শতভাগ ভর্তি হয়ে গিয়েছে। জায়গার অভাবে অনেক পর্যটক বাধ্য হয়ে কুলুর দিকে রওনা দিচ্ছেন। তবে সেখানেও স্বস্তি নেই। একাধিক জায়গায় রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় যাতায়াত ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানা গিয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, তুষারপাতের কারণে হিমাচলের বিভিন্ন জেলায় একাধিক রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে লাহুল-স্পিতিতে ২৯২টি, চাম্বায় ১৩২টি, মান্ডিতে ১২৬টি, কুলুতে ৭৯টি, সিরমউরে ২৯টি, কিন্নরে ৪টি, উনাতে ২টি এবং সোলানে ১টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই ট্র্যাফিক জ্যাম শনিবার রাত পর্যন্ত কাটেনি। হাজার হাজার পর্যটক এখনও গাড়িতেই আটকে রয়েছেন বলে খবর।
এই পরিস্থিতিতে হিমাচল প্রদেশ সরকারের তরফে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে আবহাওয়া এমনই প্রতিকূল থাকবে। প্রায় চার মাস পর ফের তুষারপাতের সাক্ষী হয়েছে হিমাচল। সাদা বরফের চাদরে ঢেকে গিয়েছে কিন্নর জেলা এবং সিমলার একাধিক এলাকা।
আবহাওয়া দফতরের মতে, ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় তৈরি হওয়া পশ্চিমী ঝঞ্ঝা রবিবার পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে। এর জেরেই মান্ডি, সোলান, কাংড়া, বিলাসপুর-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের অপ্রয়োজনে পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




















