প্রয়াত পদ্মশ্রী প্রাপক কিংবদন্তি চিকিৎসক মণি ছেত্রী, শোকস্তব্ধ চিকিৎসা মহল

প্রয়াত পদ্মশ্রী প্রাপক কিংবদন্তি চিকিৎসক মণি ছেত্রী, শোকস্তব্ধ চিকিৎসা মহল

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – প্রয়াত হলেন পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত প্রখ্যাত চিকিৎসক মণি ছেত্রী। রবিবার রাত প্রায় ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ কলকাতার বালিগঞ্জ ফাঁড়ি এলাকার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৬ বছর। তাঁর প্রয়াণে রাজ্যের চিকিৎসা মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের পক্ষ থেকেও তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ দিন আগে বাড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে তাঁর শরীরে সাবডুরাল হেমাটোমা ধরা পড়ে। হাসপাতালে চিকিৎসার পর পাঁচ দিন আগে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও বয়সজনিত জটিলতা ও আঘাতের কারণে শেষ পর্যন্ত রবিবার রাতে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
১৯২০ সালের ২৩ মে দার্জিলিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন মণি ছেত্রী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস, এমডি এবং এমআরসিপি ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতে দ্রুত নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন। লন্ডনে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরবর্তীকালে এসএসকেএম হাসপাতালের সার্জন সুপারিনটেনডেন্ট এবং আইপিজিএমইআর-এ কার্ডিওলজি ও মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর-ডিরেক্টর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। কঠোর নিয়মে বাঁধা ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবন। ভোর চারটেয় ঘুম থেকে উঠে স্নান ও পূজা সেরে নিয়মিত হাঁটা, তারপর সাধারণ প্রাতরাশ—চা, বিস্কুট ও মুড়ি। দিনের বাকি সময় কাটত পড়াশোনা ও লেখালেখিতে। বয়সের শেষ পর্যায়েও নতুন মেডিক্যাল বই পড়া, নোট তৈরি করা এবং ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ছিল তাঁর নিত্য অভ্যাস।
সহকর্মীদের মতে, তিনি শুধু একজন দক্ষ চিকিৎসকই নন, একজন আদর্শ শিক্ষক ও সফল প্রশাসকও ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই বহু তরুণ চিকিৎসক প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে চিকিৎসা জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top