প্রয়াত মুকুল রায়, শোকস্তব্ধ বাংলার রাজনীতি

প্রয়াত মুকুল রায়, শোকস্তব্ধ বাংলার রাজনীতি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য -দীর্ঘ রোগভোগের পর না ফেরার দেশে বর্ষীয়ান  রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। রবিবার রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ সল্টলেকের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ছেলে শুভ্রাংশু রায় বাবার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।
প্রায় ৬০০ দিনেরও বেশি সময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মুকুল রায়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে হার মানতে হয় তাঁকে। পুত্র শুভ্রাংশু বলেন, “বাবা অনেক লড়াইয়ে জিতেছিলেন, কিন্তু এই লড়াইয়ে হেরে গেলেন।” বাংলার রাজনীতিতে ‘চাণক্য’ বলেই পরিচিত ছিলেন তিনি। এক সময় তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক কৌশলে রাজ্য রাজনীতিতে ছিল ব্যাপক প্রভাব। তৃণমূল কংগ্রেস-এর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্তরে রেল ও জাহাজমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন দক্ষতার সঙ্গে।
দলের সংগঠন গড়ে তোলা থেকে শুরু করে জমি আন্দোলন এবং রাজ্যের পালাবদলের লড়াই—সব ক্ষেত্রেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ছিলেন মুকুল রায়। তবে সময়ের সঙ্গে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। তিনি তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন ভারতীয় জনতা পার্টি-তে। পরবর্তীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাত ধরে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। কিন্তু ততদিনে শারীরিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন তিনি এবং সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নেন।
২০২১ সালে স্ত্রীয়ের মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে ডিমেনশিয়ায় ভুগছিলেন তিনি, যার ফলে অনেক সময় অসংলগ্ন কথাবার্তাও বলতেন। ২০২৪ সালে বাড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তারপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। সম্প্রতি তাঁর জন্মদিনও পালন করা হয়েছিল সীমিত পরিসরে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের বাইরে ভিড় জমাতে শুরু করেন অসংখ্য অনুরাগী ও দলীয় কর্মী। তাঁর প্রয়াণে বাংলার রাজনীতির এক যুগের অবসান হল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top