রাজ্য – ভোটের মুখে প্রশাসনিক রদবদলকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক বদলি সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ বলে অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপগুলি নিয়মমাফিক প্রশাসনিক নয়, বরং ‘উচ্চস্তরের নির্দেশে পরিকল্পিত’।
পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন রাজ্যে প্রশাসনিক বদলি শুরু করে। তবে তার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের হঠাৎ সরানো হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বুধবার রাতেও অন্তত ১৩ জন অভিজ্ঞ আইপিএস আধিকারিককে ভিনরাজ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে আকাশ মাঘারিয়া, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, আমনদীপ এবং ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ের মতো অফিসারদের নাম রয়েছে। তাঁদের তামিলনাড়ু ও কেরলের মতো রাজ্যে নির্বাচনী দায়িত্বে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনাতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে পশ্চিমবঙ্গকে ‘টার্গেট’ করে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ জনের বেশি সিনিয়র অফিসার—যাঁদের মধ্যে ডিজিপি ও আইজিপি স্তরের আধিকারিকরাও রয়েছেন—তাঁদের বদলি করা হয়েছে।
শুধু পুলিশ নয়, একাধিক জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদেরও বদলি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই পদক্ষেপগুলি ভোটের আগে প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা এবং এর পিছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
নিজের পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় পরিসরে এই ধরনের বদলি আদৌ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করে কি না, নাকি উল্টে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি করে।
এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভোটের স্বার্থে এই পদক্ষেপের কথা বলছে, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের অভিযোগ—এটি প্রশাসনিক নয়, বরং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের উদাহরণ।
ভোটের আগে এই সংঘাত কোন দিকে গড়ায় এবং প্রশাসনিক এই রদবদল নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।




















