দিল্লি – দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত বই Four Stars of Destiny ঘিরে বিতর্ক থামার নাম নেই। এবার বই ফাঁসের অভিযোগে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল দেশজুড়ে তদন্ত শুরু করেছে। সূত্রের দাবি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই বইটি আন্তর্জাতিক ডিজিটাল বাজারে পৌঁছে গিয়েছিল।
গত মঙ্গলবার এই ঘটনায় ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের ধারায় এফআইআর দায়ের হয়। বিষয়টি সামনে আসে, যখন প্রশ্ন ওঠে, অপ্রকাশিত একটি বই কীভাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর হাতে পৌঁছল। এক সপ্তাহ আগে সংসদে তিনি বই থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার চেষ্টা করেন, যা রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দেয়।
প্রাথমিক অনুমান, এটি সাধারণ পাইরেসি নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়া এড়িয়ে বইটি ছড়ানো হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় ডিজিটাল ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, সরকারি ছাড়পত্রের আগেই এই দেশগুলির অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বইটি বিক্রির জন্য তোলা হয়েছিল।
প্রকাশক পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি এবং অনুমোদিত কোনও কপিও বাজারে আসেনি। তবে তদন্তে উঠে এসেছে, ফাঁস হওয়া সংস্করণে একটি ১৩ অঙ্কের আইএসবিএন নম্বর ছিল, যা বাণিজ্যিক প্রকাশনার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। পুলিশ সূত্রের মতে, আইএসবিএন থাকায় বোঝা যাচ্ছে এটি খসড়া নয়, প্রকাশনার জন্য প্রস্তুত সংস্করণ।
প্রথম আপলোডের সূত্র মিলেছে ‘.io’ ডোমেইনযুক্ত একটি ওয়েবসাইটে, যা মূলত ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ওশান টেরিটরির কান্ট্রি কোড হলেও প্রযুক্তি সংস্থাগুলির মধ্যে জনপ্রিয়। পরে কনটেন্টটি একাধিক হোস্টিং প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য বিদেশি সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের এক কর্তার কথায়, সরকারি ছাড়পত্রের আগেই বইটি বিদেশি বাজারে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে কারা যুক্ত ছিলেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এ বিষয়ে এখনও মন্তব্য করেনি। তবে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি ভঙ্গের অভিযোগও গুরুত্ব পাচ্ছে।




















