কলকাতা – বহু প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে আজ, বুধবার। প্রাথমিক শিক্ষকের ৩২ হাজার চাকরি সংক্রান্ত মামলার রায়দানের দিন নির্ধারিত হয়েছে। দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন। আজ দুপুর ২টো নাগাদ মামলাটি রায়দানের জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর আগেই গোটা কলকাতা হাই কোর্ট চত্বরকে ঘিরে ফেলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তায়। প্রতিটি গেটে মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন কলকাতা পুলিশের এক এসি পদমর্যাদার আধিকারিকও। রায়কে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই কারণে আগেভাগেই অতিরিক্ত সতর্কতা নিচ্ছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের টেটের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে শুরু হয়েছিল নিয়োগ প্রক্রিয়া, যেখানে প্রায় ৪২৫০০ শিক্ষক নিয়োগ হয়। সেই নিয়োগে ওঠে অনিয়মের অভিযোগ। ২০২৩ সালের মে মাসে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিলেও, প্রার্থীদের আপাতত কর্মরত থাকতে বলা হয় এবং তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় পর্ষদ। এরপর একক বেঞ্চের চাকরি বাতিলের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি থাকলেও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ বহাল থাকে।
পরবর্তী সময়ে রাজ্য ও পর্ষদ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় এই অভিযোগে যে, সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে মামলা ফের হাই কোর্টে ফিরে আসে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চে শুনানি সম্পন্ন হয়। ১২ নভেম্বর শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়দান স্থগিত রাখা হয়। আজ সেই বহুল প্রত্যাশিত রায় সামনে আসছে। ৩২ হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ কোন পথে মোড় নেয়—সেদিকেই নজর সবার।




















