রাজ্য – প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। টিকিট না পাওয়ায় সরাসরি দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন Rinku Majumdar। অভিযোগ গুরুতর—দুর্নীতিতে অভিযুক্ত এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদেরই প্রার্থী করেছে দল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “যোগ্যতা বিচার না করে কিসের ভিত্তিতে এই নির্বাচন?”—যা নিয়ে দলের অন্দরেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রিঙ্কু মজুমদার। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আশা নিয়ে অনেক আগেই নিজের জীবনপঞ্জি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, ২৫৫টি আসনের কোথাও তার জায়গা হয়নি।
এই সিদ্ধান্তেই রিঙ্কু ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ফোনে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি জানান, রাজারহাট-নিউটাউন ও বীজপুর কেন্দ্রে যাঁদের প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি ও খুনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তিনি সরাসরি বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক Sunil Bansal-কে জানিয়েছেন।
রিঙ্কুর কথায়, “আমি দায়িত্ববোধ থেকেই সব জানিয়েছি। কিন্তু দল কোন সমীক্ষার ভিত্তিতে এই প্রার্থী বেছে নিয়েছে, তা বুঝতে পারছি না।” তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রমাণ দেওয়ার পরও শীর্ষ নেতৃত্ব প্রার্থী বদলের বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি।
উল্লেখ্য, রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী Pishush Kanoria বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি রিঙ্কুর। অন্যদিকে বীজপুরের প্রার্থী Sudipta Das-এর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রয়েছে, যদিও তিনি বর্তমানে জামিনে মুক্ত। এই দুই ‘দাগি’ প্রার্থীকে টিকিট দেওয়ার কারণে দলের ভিতরে ক্ষোভ ছিল, যা আরও উস্কে দিল রিঙ্কুর মন্তব্য।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ, তিনি পরিবারতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। রিঙ্কুর বক্তব্য, “আমি সম্প্রতি মিসেস ঘোষ হয়েছি। বহু বছর ধরে দলের জন্য কাজ করেছি। এখন আমাকে বলা হচ্ছে পরিবারতন্ত্রের কারণে টিকিট দেওয়া যাবে না! অথচ অন্যত্র বাবা-ছেলে বা Arjun Singh ও তাঁর পুত্র প্রার্থী হচ্ছেন, সেখানে সমস্যা নেই।”
এই মন্তব্যে স্পষ্ট—শুধু টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভ নয়, দলের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াকে নিয়েই তিনি বড় প্রশ্ন তুলেছেন। ভোটের আগে বিজেপির অন্দরমহলে এই বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।




















