কলকাতা – বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। ভোটার তালিকার সংশোধনের কাজ শেষ হলেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করতে পারে বলে জোর জল্পনা। হাতে সময় কম থাকায় শাসক-বিরোধী সব দলই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কালীঘাটেও একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছে, যার কেন্দ্রবিন্দু প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা।
সূত্রের খবর, বুধবার ও বৃহস্পতিবার কালীঘাটে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল আসন্ন নির্বাচনে কারা প্রার্থী হবেন। তৃণমূল সুপ্রিমো Mamata Banerjee নিজেই প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করতে চাইছেন। এই বিষয়ে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড Abhishek Banerjee-র সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইপ্যাকের কর্ণধার Pratik Jain। ভোটের আগে কৌশল নির্ধারণ ও প্রার্থী বাছাই নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
এবার প্রশ্ন উঠছে, প্রার্থী তালিকায় কাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে—পুরনোদের রাখা হবে, না কি নতুন মুখ আনা হবে? দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত, বেশ কয়েকটি নাম ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং তালিকা প্রায় প্রস্তুত। ভোট ঘোষণা হলেই তা প্রকাশ করা হবে। পাঁচ বছর আগে যাঁরা টিকিট পেয়েছিলেন, তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রেই এবার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ও পরিচিত মুখদেরও সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
তৃণমূল ভবনে বায়োডাটা জমা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ বক্স রাখা হয়েছে। দলের যে কোনও সদস্য নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার আবেদন করতে পারবেন। তবে তালিকা প্রায় তৈরি হয়ে গেলে এই বক্স কেন রাখা হল, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্যই এই উদ্যোগ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আইপ্যাক মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরি করবে এবং তার ওপর নির্ভর করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, ২ মার্চ বাংলার ভোট ঘোষণা হতে পারে। চলতি বছর তিন দফায় ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—দক্ষিণবঙ্গে দু’দফায় এবং উত্তরবঙ্গে এক দফায়। সময় কম থাকায় শাসক ও বিরোধী, দুই পক্ষই এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হলেই স্পষ্ট হবে, কারা নামছেন এবারের ভোটযুদ্ধে।




















