রাজ্য – ফর্ম ৬ ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। জানানো হয়েছে, সরকারি অফিসে যে কোনও ব্যক্তি ইচ্ছামতো সংখ্যায় নথি জমা দিতে পারেন, তার উপর কোনও নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ নেই। ফলে বিপুল সংখ্যায় Form 6 জমা পড়া অস্বাভাবিক নয় এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি বলেও ধরা যায় না।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ব্যাখ্যা দেন সিইও Manoj Agarwal। তিনি জানান, ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখন সারা বছর চলমান। আগে বছরে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই ফর্ম জমা দেওয়া যেত, কিন্তু সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী এখন যে কোনও দিন আবেদন করা সম্ভব। তবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে—মনোনয়ন জমার শেষ দিনের ১০ দিন আগে পর্যন্ত যে ফর্ম জমা পড়বে এবং নিষ্পত্তি হবে, শুধুমাত্র সেগুলিই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
তিনি আরও জানান, এই সময়সীমার পরে জমা পড়া ফর্ম গ্রহণ করা হলেও তা বর্তমান নির্বাচনে কার্যকর হবে না, ভবিষ্যতের জন্য বিবেচিত হবে। প্রথম দফার জন্য এই সময়সীমা ছিল ২৭ মার্চ এবং দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাঁদের দফতরের কাছে এমন কোনও সফটওয়্যার বা ক্ষমতা নেই, যার মাধ্যমে সরাসরি কোনও ভোটারের নাম তালিকায় যোগ বা বাদ দেওয়া যায়। এই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও) এবং নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও)-দের মাধ্যমে।
দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও অভিযোগ বা নথি জমা পড়লে তা সংশ্লিষ্ট ডিইও-র কাছে পাঠানো হয় এবং আইন অনুযায়ী তদন্ত ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিইও দফতরের ভূমিকা মূলত তদারকি, নির্দেশনা এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ। পাশাপাশি এদিন আরও জানানো হয়েছে, সম্প্রতি হুগলি ও হাওড়া থেকে কিছু ব্যক্তি দফতরে এসে ফর্ম জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাঁদের আচরণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফর্ম ৬ নিয়ে যে ‘চক্রান্ত’-এর অভিযোগ উঠেছে, সেটিও তদন্তাধীন বলে জানানো হয়েছে। তবে একইসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সরকারি দফতরে নথি জমা দেওয়া সম্পূর্ণ আইনসিদ্ধ এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়া কোনওভাবেই ভোটার তালিকায় পরিবর্তন সম্ভব নয়। এই ব্যাখ্যার পরেও রাজনৈতিক চাপানউতোর থামেনি। মঙ্গলবার ভোরে বিপুল পরিমাণে ফর্ম ৬ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মী এবং তৃণমূল সমর্থিত বিএলওদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়, যা রাজ্যের নির্বাচনী আবহকে আরও তীব্র করে তুলেছে।



















