দক্ষিন 24 পরগণা – এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ফারাক্কায় বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে ঘটনায় ফারাক্কার বিডিও জঙ্গিপুর পুলিশ স্টেশনে এফআইআর দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, এ পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এফআইআরে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বা তাঁর সঙ্গে থাকা কোনও তৃণমূল নেতার নাম না থাকায় বিরোধীরা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিজেপির মুখ্য প্রবক্তা দেবজিৎ সরকার অভিযোগ করেছেন, ‘আমরা নিজের চোখেই দেখেছি কারা হামলা চালিয়েছে। বিডিও কি স্থানীয় বিধায়ককে চিনতে পারলেন না, না কি কোনও বাধ্যবাধকতার কারণে নাম উল্লেখ করা হয়নি? এ থেকেই প্রশাসনের তথাকথিত নিরপেক্ষতা স্পষ্ট।’
এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষ এবং বিএলওদের হেনস্থার অভিযোগের কারণে বুধবার ফারাক্কা বিডিও অফিস চত্বর উত্তাল হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে হেয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের উপস্থিতিতেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
এদিন বিডিও অফিস চত্বরে সমস্ত বিএলও একযোগে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। তারা ইআরও-র হাতে তাদের ইস্তফাপত্র তুলে দেন। বিএলওদের দাবি, তারা এসআইআর-এর বিরোধিতা করছেন না, তবে এই প্রক্রিয়ার কার্যকর করার পদ্ধতিতে সমস্যা রয়েছে। সরকার প্রদত্ত নির্দেশ মেনে নথি সংগ্রহ ও অ্যাপে আপলোড করার পরও বারবার নতুন নথি চাওয়া হচ্ছে এবং একাধিকবার সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে ঘন ঘন ডাকা হচ্ছে, যা কার্যত হেনস্থার পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
বিএলওদের আরও অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়ার দায় তাদের ঘাড়ে চাপানো হয়েছে। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও অনিশ্চয়তার কারণে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। মানসিক চাপ এতটাই বেড়েছে যে অনেক বিএলও প্রতিদিন সরকার প্রদত্ত অ্যাপ খুলতেই ভয় পাচ্ছেন।
বিএলওদের আন্দোলনের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও বিডিও অফিস চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দেন। গেট অবরুদ্ধ করে অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। সাময়িকভাবে হেয়ারিং-এর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা হেয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়। অভিযোগ, বিধায়কের নেতৃত্বে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গোটা এলাকা কার্যত থমথমে হয়ে যায়। প্রশাসনিক ভূমিকা এবং এফআইআর-এ বিধায়কের নাম না থাকা নিয়ে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এ ব্যাপারে বিধায়ক বা বিডিওর পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




















