দক্ষিন 24 পরগণা – ফোনে কথা বলা নিয়ে অশান্তির জেরেই বধূকে খুন করা হয়েছে—এই অভিযোগ তুলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে সরব হল মৃতার বাপের বাড়ির লোকজন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরে। ইতিমধ্যেই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। মৃতার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাসুরের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম শুভ্রা সরদার। তিনি বারুইপুর থানার কাটাখাল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। সোশাল মিডিয়ায় নরেন্দ্রপুরের কেলেগোড়ের বাসিন্দা রানা সরদারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। পরিবারের সম্মতিতেই চলতি বছরের এপ্রিলে তাঁদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, শুভ্রা ফোনে কথা বললেই সন্দেহ করতেন তাঁর স্বামী রানা সরদার। তাঁর ধারণা ছিল, স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন। এই সন্দেহকে কেন্দ্র করেই প্রায়শই দাম্পত্য কলহ চলত। অভিযোগ, সেই অশান্তিই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি নেয়।
গত সপ্তাহে পৌষমেলা উপলক্ষে শুভ্রা বাপের বাড়িতে এসেছিলেন। রবিবার তাঁর শ্বশুর ভদ্রেশ্বর সরদার এসে তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান। পরদিন সোমবারই শুভ্রার মৃত্যুর খবর পৌঁছয় বাপের বাড়িতে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে শুভ্রার দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে দাবি করেছেন।
মৃতার বাবা মনা সরদার অভিযোগ করেন, এটি কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, পরিকল্পিত খুন। তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানায় স্বামী রানা সরদার, শ্বশুর ভদ্রেশ্বর সরদার, শাশুড়ি সুক্কুলি সরদার ও ভাসুর রাকেশ সরদারের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে তদন্তকারীরা।




















