বিদেশ – এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের রোষানলে পড়ল ফ্রান্স। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফরাসি পণ্যের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের অভিযোগ, ওয়াশিংটনকে প্রকাশ্যে উপহাস করেছে প্যারিস। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে এনে কার্যত ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কড়া শুল্কবাণের হুঁশিয়ারি দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করলেন ট্রাম্প।
এর আগে সোমবার ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর আমেরিকাকে সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড একটি সার্বভৌম দেশের সার্বভৌম অংশ এবং তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। এই বিষয়ে অযথা হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি কটাক্ষ করে ফ্রান্সের তরফে বলা হয়, ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে ভেবে এখনই সব ভেঙে ফেলার মানসিকতা নিয়ে চলছেন ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকেই এভাবেই ব্যঙ্গ করেছে প্যারিস।
প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডে রুশ আগ্রাসনের সম্ভাবনা নিয়ে ন্যাটো গত ২০ বছর ধরে ডেনমার্ককে সতর্ক করে আসছে। কিন্তু সেই বিষয়ে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি ডেনমার্ক। এই মন্তব্য ঘিরেই ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে আমেরিকার টানাপড়েন আরও বেড়েছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকেই প্রকাশ্যে কটাক্ষ করেছে ফ্রান্স।
ফরাসি নেতৃত্বের এই অবস্থানে বেজায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। ক্ষোভ উগরে দিতে গিয়ে তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে হওয়া ব্যক্তিগত চ্যাটও প্রকাশ্যে এনেছেন। সেখানে ট্রাম্প জানান, ফ্রান্স থেকে আমদানি হওয়া ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। একই সঙ্গে ম্যাক্রোঁকে কটাক্ষ করে বলেন, তাঁকে কেউ পছন্দ করে না এবং খুব শিগগিরই তিনি প্রেসিডেন্ট ভবন ছাড়তে বাধ্য হবেন।
প্রকাশ্যে আসা সেই চ্যাটে দেখা যাচ্ছে, আলাদা করে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন ম্যাক্রোঁ। প্যারিসে একসঙ্গে নৈশভোজের প্রস্তাবও দেন তিনি। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান তাঁর কাছে বোধগম্য নয় বলেও প্রশ্ন তোলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিরুদ্ধাচরণের জেরে কয়েকদিন আগেই ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ডের পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। এই শুল্ক কার্যকর হবে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে। তবে এত কিছুর পরেও ইউরোপের দেশগুলি অবস্থান বদলায়নি। রবিবার এক যৌথ বার্তায় তারা জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের মানুষের পাশে রয়েছে তারা। এই আবহেই ফ্রান্সের উপর আরও বড় শুল্কবাণ আছড়ে পড়তে চলেছে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প।




















